GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / Uncategorized / দুবাইয়ে ১৬ কেজির বেশি ওজনের স্বর্ণের দুল, গড়ল দুই বিশ্বরেকর্ড

দুবাইয়ে ১৬ কেজির বেশি ওজনের স্বর্ণের দুল, গড়ল দুই বিশ্বরেকর্ড

দুবাইয়ে তৈরি ১৬ কেজিরও বেশি ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে দুটি বিশ্বরেকর্ড অর্জন করেছে। ২২ ক্যারেট সোনায় তৈরি দুল দুটি বিশ্বের সবচেয়ে ভারী এবং সবচেয়ে বড় স্বর্ণের কানের দুল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের ‘জুয়েল অব জয়’ শোরুমে দুল দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটনমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মারি, জুয়ালুক্কাস গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. জয় আলুক্কাস এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জন পল আলুক্কাসসহ জুয়েলারি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এ থাউজেন্ড পিকক’ নামের এই কানের দুল তৈরি করেছে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জুয়ালুক্কাস।

১৬.৫১৪ কেজি সোনায় তৈরি বিশাল দুল

দুল দুটির সম্মিলিত নিট স্বর্ণের ওজন ১৬ দশমিক ৫১৪ কেজি। আয়তন ও ওজন—দুই বিবেচনাতেই এগুলো নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের রেকর্ডের তুলনায় দুল দুটির ওজন পাঁচ গুণেরও বেশি।

দুলগুলোর দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ২১৫ মিটার এবং ব্যাস ০ দশমিক ৬৮২ মিটার। এত বড় ও জটিল নকশার অলংকার তৈরি করতে কয়েক মাস সময় লেগেছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫ জন দক্ষ কারিগর দুল দুটি তৈরিতে কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে তাঁদের ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৪০ ঘণ্টা শ্রম। দীর্ঘ এই নির্মাণপ্রক্রিয়ায় স্বর্ণের কারুকাজের পাশাপাশি নকশার সূক্ষ্মতা ও ঐতিহ্যবাহী অলংকারশৈলীর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘এ থাউজেন্ড পিকক’ নামের পেছনের ভাবনা

কানের দুল দুটির নাম ‘এ থাউজেন্ড পিকক’, যার অর্থ ‘এক হাজার ময়ূর’। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ময়ূরকে সৌন্দর্য, গর্ব ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টাকৃতির কানের দুল ‘ঝুমকা’র আদলে তৈরি হয়েছে এই অলংকার।

জুয়ালুক্কাসের বর্ণনা অনুযায়ী, দুলের নকশার পেছনে রয়েছে এক ঐশ্বরিক ময়ূরকে ঘিরে প্রচলিত কিংবদন্তি। সেই কাহিনিতে ময়ূরটি এক হাজার পালক ঝরিয়েছিল, যার প্রতিটি একটি প্রার্থনা, ইচ্ছা কিংবা স্বপ্নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

দুলের নকশায় ময়ূরের পালকের সৌন্দর্য ও সূক্ষ্ম কারুকাজ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী অলংকারশৈলী এবং বৃহৎ আকারের আধুনিক নির্মাণের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে এই বিশেষ সৃষ্টি।

দুবাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই উদ্যোগ

জুয়ালুক্কাস জুয়েলারির প্রধান নির্বাহী জন পল আলুক্কাস জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিষ্ঠানটির চার দশকের পথচলা এবং দুবাইয়ের উন্নয়নযাত্রা থেকেই এমন কিছু তৈরির চিন্তা আসে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুবাইকে স্বর্ণের শহর হিসেবে আরও পরিচিত করে তোলা এবং শহরটির অর্জনে অবদান রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুবাই দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের শহর হিসেবে পরিচিত; এই সৃষ্টি শহরটির সেই পরিচিতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

জুয়ালুক্কাস গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. জয় আলুক্কাসও জানান, দুবাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দুল দুটি তৈরির পেছনে থাকা দক্ষ কারিগরদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তাঁর মতে, একটি সৃষ্টির মাধ্যমে দুটি গিনেস বিশ্বরেকর্ড অর্জন তাঁদের পরিবার, ১৩টি দেশে কর্মরত কর্মী এবং দীর্ঘদিনের গ্রাহকদের জন্য গর্বের বিষয়।

গিনেসের সনদ হস্তান্তর

দুল দুটি উন্মোচনের অনুষ্ঠানে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একজন বিচারক দুটি বিশ্বরেকর্ডের সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে দুবাই গোল্ডেন জুয়েলারি গ্রুপের সদস্য ও বিপণন কমিটির প্রধান লায়লা মোহাম্মদ সুহাইল, দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক রশিদ আলহারমুদি এবং ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা লেভি পেজুলুসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে ‘এ থাউজেন্ড পিকক’ বিশ্বের সবচেয়ে ভারী এবং সবচেয়ে বড় স্বর্ণের কানের দুল হিসেবে দুটি পৃথক রেকর্ডের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

দর্শনার্থীদের জন্য স্থায়ী প্রদর্শনী

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম জুয়েলারি শোরুম হিসেবে ‘জুয়েল অব জয়’ চালু করা হয়েছে। বিশ্বরেকর্ড গড়া কানের দুল দুটি শোরুমটিতে স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা বিনামূল্যে শোরুমে গিয়ে দুল দুটি দেখতে পারবেন। ফলে এটি শুধু স্বর্ণের অলংকার হিসেবে নয়, দুবাইয়ের জুয়েলারি শিল্পের দক্ষতা ও কারুশিল্প তুলে ধরার একটি আকর্ষণীয় প্রদর্শনী হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

১৬.৫১৪ কেজি স্বর্ণ, ৫৫ জন কারিগরের সম্মিলিত শ্রম এবং ঐতিহ্যবাহী নকশার সমন্বয়ে তৈরি ‘এ থাউজেন্ড পিকক’ এখন দুবাইয়ের স্বর্ণালংকার শিল্পে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের দুটি স্বীকৃতি দুল দুটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে।

Social Icons