বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। তেলের দাম কমে আসা, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) মূল্যবান এই ধাতুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সামনে ফেডের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের কারণে স্বর্ণের দামের এই বৃদ্ধি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে স্বর্ণের দাম গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। গত সপ্তাহে ধাতুটির দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়, যা গত জুনের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন।
ফেডের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে বাজার
যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডার মতে, তেলের দাম কমে আসায় স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত আসায় স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির গতি সীমিত হতে পারে।
তার মতে, সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির পরিবর্তন স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ
গত সপ্তাহে প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তেলের দামে এই পতনে ভূমিকা রেখেছে।
তবে ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত থাকায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। জ্বালানির দাম মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের প্রত্যাশা পরিবর্তিত হলে স্বর্ণের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। এ কারণে তেলের দামের গতিবিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা
বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। এর পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিইর তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপে এই সূচককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে ফেড।
বর্তমানে বাজারে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার প্রত্যাশা থাকলেও ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যেতে পারে। ফলে ফেডের সিদ্ধান্ত স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম
স্বর্ণের পাশাপাশি সোমবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৪ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৩০ ডলার হয়েছে।
এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪৬ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।
সব মিলিয়ে, গত সপ্তাহের বড় দরপতনের পর স্বর্ণের বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও সামনে ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং মূল্যস্ফীতির তথ্যের ওপরই বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।









