চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পারিবারিক জীবন বরাবরই সাধারণ মানুষের আগ্রহের বিষয়। রাজনীতিতে তার দীর্ঘ উত্থানের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান এবং শৈশবের নানা ঘটনাও তার ব্যক্তিজীবনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন শি জিনপিং। তার বাবা শি ঝংজুন ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। পরবর্তী সময়ে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
শি ঝংজুনের ছয় সন্তানের একজন ছিলেন শি জিনপিং। বাবার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ছোটবেলায় তিনি চীনের অনেক পরিবারের তুলনায় ভালো শিক্ষা ও সুযোগ পেয়েছিলেন।
২২ বছর বয়সে তিনি বেইজিং ছেড়ে চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে রাসায়নিক প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর শি জিনপিং চীনের উপকূলীয় প্রদেশ ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াংয়ে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। অর্থনৈতিক সংস্কারের পর এই দুই অঞ্চল পরবর্তীতে চীনের অন্যতম সমৃদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়।
শির রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তার বাবার রাজনৈতিক পুনর্বাসনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ও সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে এসব সম্পর্ক তার রাজনৈতিক উত্থানে সহায়ক হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের প্রথম স্ত্রী
ব্যক্তিজীবনে শি জিনপিং প্রথমবার বিয়ে করেন ১৯৭৯ সালে। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূতের মেয়ে কে লিংলিং।
তবে সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের প্রায় তিন বছর পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
দ্বিতীয় স্ত্রী পেং লিউয়ান
বর্তমানে শি জিনপিংয়ের স্ত্রী পেং লিউয়ান। এক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়।
পেং লিউয়ান চীনের সামরিক বাহিনীর একজন পরিচিত লোকসংগীত শিল্পী। চীনের জনপ্রিয় চান্দ্র নববর্ষের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান গাওয়ার কারণে ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকেই তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পান।
সে সময় অনেক চীনা নাগরিকের কাছে পেং লিউয়ান তার স্বামী শি জিনপিংয়ের চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন। কারণ তখন শি ছিলেন মূলত প্রাদেশিক পর্যায়ের একজন রাজনৈতিক কর্মকর্তা।
চীনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও পেং লিউয়ানকে বিভিন্ন বিদেশ সফরে শির সঙ্গে দেখা গেছে। চীনের ফার্স্ট লেডিদের সাধারণত অপেক্ষাকৃত প্রচারবিমুখ থাকার যে প্রচলিত ধারা ছিল, তার তুলনায় এটি কিছুটা ব্যতিক্রম।
একমাত্র সন্তান
শি জিনপিং ও পেং লিউয়ানের একমাত্র সন্তান মেয়ে শি মিংজে। ১৯৯২ সালে তার জন্ম।
শি মিংজে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না।
যেভাবে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বে
শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক উত্থান ধীরে ধীরে হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে চীনের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
২০০৭ সালে সাংহাইয়ের শীর্ষ নেতৃত্বে অল্প সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পান।
এর পাঁচ বছর পর, ২০১২ সালে তিনি হু জিনতাওয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হন।
পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শি জিনপিং চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। তার নেতৃত্বে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
শৈশবে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের নানা উত্থান-পতন পেরিয়ে শি জিনপিং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতা হয়ে উঠেছেন।









