GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, চার শিক্ষার্থীকে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ

নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, চার শিক্ষার্থীকে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ

বরগুনার আমতলীতে একটি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকিরের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁদের তুলে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাঁদের আমতলী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনাটি ঘিরে কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জালাল উদ্দীন ফকির। পুলিশ জানিয়েছে, চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে মামলা করা হয়েছে।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্লোগান

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে আমতলী উপজেলার মহিষকাটায় ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন এবং আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মো. মাহবুবুল আলমসহ অন্যরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

চার শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তুলে নিয়ে যান। পরে জুমার নামাজের পর চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিমকে তুলে নেওয়া হয় বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন।

শিক্ষার্থীদের পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে তাঁদের আমতলী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবার ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, তাঁর ছেলেকে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী মহিষকাটা এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গেছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া জানান, সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুব এবং জালাল ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

এদিকে, কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, শিক্ষার্থীদের তুলে নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। তবে পুলিশ কেন তখন পদক্ষেপ নেয়নি, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার

আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দলীয় নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের এনে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা এবং কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং শনিবার আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত, তাঁদের আইনজীবীর বক্তব্য এবং নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পৃথক কোনো তদন্ত হয়েছে কি না—এসব তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

Social Icons