GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / ঝিনাইদহে সার ডিলার নিয়োগে বিএনপি নেতার স্বজনদের নাম, উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ

ঝিনাইদহে সার ডিলার নিয়োগে বিএনপি নেতার স্বজনদের নাম, উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের ভাই, চাচাতো শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীর নাম এসেছে। সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকটি ক্ষেত্রে আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা ও ব্যবসায়িক অবকাঠামোসংক্রান্ত শর্ত মানা হয়নি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কৃষি মন্ত্রণালয় নতুন সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করার পর বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

কালীগঞ্জে দুই স্বজনের নামে ডিলারশিপ

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে মেসার্স নাজমুল ট্রেডার্সের নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন নাজমুল হক মিশু। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের চাচাতো শ্যালক। অন্যদিকে, ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে সাদ ট্রেডার্সের নামে ডিলার হয়েছেন এমএ মজিদের বড় শ্যালক মাহমুদ হাসান লিটনের স্ত্রী সুরমা হাসান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজমুল হক মিশু শহরের বিহারী মোড় এলাকায় রড ও সিমেন্টের ব্যবসা করেন। সুরমা হাসান একজন গৃহিণী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকায় তাঁদের নাম জেলা কমিটির সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

হরিণাকুণ্ডুতে ডিলার হয়েছেন বিএনপি সভাপতির ভাই

হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নে মেসার্স একতা ট্রেডার্সের নামে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন এমএ মজিদের ভাই আব্দুল লতিফ।

এ নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল লতিফকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালায় কী শর্ত রয়েছে?

সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব বা ভাড়ায় পরিচালিত ব্যবসায়িক অবকাঠামো থাকতে হবে। এর মধ্যে ৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদামঘর থাকার শর্তও রয়েছে।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে এসব শর্তের ভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগের আবেদন আহ্বান করা হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও নাজমুল হক মিশু ও সুরমা হাসান সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ও প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক অবকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

আবেদনকারী নাজমুলের বক্তব্য

নাজমুল হক মিশু জানিয়েছেন, জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ তাঁর আত্মীয়। এর আগে তিনি সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নেও তাঁর কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, প্রায় চার মাস আগে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি শহরের বিহারী মোড়ে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির সভাপতির আত্মীয়দের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলে অন্য আবেদনকারীদের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্য আবেদনকারীরা অর্থ ব্যয় করে আবেদন করেও বঞ্চিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দুই ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা আগে সার ব্যবসা করেননি এবং তাঁরা ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাও নন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রশাসনের বক্তব্য কী?

কালীগঞ্জ উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁরা ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা কমিটি বিস্তারিত বলতে পারবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের বক্তব্য জানতে শনিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জেলা প্রশাসক ও জেলা সার এবং বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি নোমান হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। শনিবার দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় তিনি জানান, সার ডিলার নিয়োগের তালিকা তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পৌঁছায়নি। এ কারণে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনজনের নাম প্রস্তাব হিসেবে মন্ত্রণালয় বা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

Social Icons