সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় সামরিকভাবে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের পক্ষে এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলার খবর সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
হোয়াইট হাউস থেকে টেনেসিতে একটি নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে যোগ দিতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার খবর তাঁরা কিছুক্ষণ আগেই পেয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তবে তাঁর বক্তব্যে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা ছিল না।
রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার পর উদ্বেগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে আরেকটি হামলায় হতাহতের খবরও সামনে আসে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এখনো এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি। ফলে হামলাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ ছিল এই ঘটনা। তবে হামলার ধরন এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়েও প্রশ্ন
রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার পর ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্পের আগের অবস্থান পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তিনি এগোবেন না। নতুন পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান বদলাবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
তবে সৌদি আরবের পক্ষে সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানে সম্ভাব্য হামলা দুটি পৃথক বিষয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো স্পষ্ট নয়
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যে সৌদি আরবের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়নি। তবে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এখন পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এবং মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে, নাকি অন্য কোনো উপায়ে সৌদি আরবকে সহায়তা করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।









