সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এ ইঙ্গিত দেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
ট্রাম্প বলেন, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাটি গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হুথিদের যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গোষ্ঠীটি যা করেছে তা অত্যন্ত খারাপ।
হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়া উচিত কি না, তা বিবেচনা করছেন বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে যোগ দিতে পারে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক হামলার খবর তাঁরা অল্প সময় আগেই পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
হুথিদের হামলার নিন্দা মার্কো রুবিওর
সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হুথিদের হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রুবিও সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন জানান। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের এবং আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
হামলায় ১২ জন নিহতের খবর
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি ভূখণ্ডে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে ঘটনাটিকে বর্ণনা করা হয়েছে। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর রোববার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
জোটটি বিমানবন্দরে হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। ঘটনাটিকে তারা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। তবে একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি-হুথি সংঘাতে নতুন উত্তেজনা
ইয়েমেনের রিয়াদ-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে হুথিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত চলছে। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও সামরিকভাবে এই সংঘাতে যুক্ত হবে কি না, তা বিবেচনা করছে।
তবে সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এবং মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপর এখন নজর রয়েছে।






