রাজধানীর কদমতলীর জুরাইন এলাকায় অটোরিকশাচালক মো. জনি (৩৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের সময় এক পথচারীকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করতে গিয়ে সহযোগীর আঘাতে নিহত হন জনি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার এসএম মোস্তাইন হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. মেহেদী হাসান বাপ্পি (২৮) ও মো. নুর আলম বারেক (২৪)। তাঁদের দুজনের বাড়িই রাজধানীর কদমতলী এলাকায়।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে জনি তাঁর দুই সহযোগীকে নিয়ে জুরাইনের মোক্তার হোসেন সড়কে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা দুই পথচারীর গতিরোধ করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছিনতাই শেষে পালানোর সময় এক পথচারী জনিকে ধরে ফেলেন। তখন জনিকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগী মেহেদী হাসান বাপ্পি ওই পথচারীকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন। কিন্তু ছুরিটি পথচারীর বদলে জনির বুকে বিদ্ধ হয়। এতে গুরুতর আহত হন জনি।
পিবিআই জানায়, এরপর তাঁর দুই সহযোগী ছিনতাই করা মালামাল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর জনির মৃত্যু
ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশ জনিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় জনির মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ।
যেভাবে গ্রেফতার করা হয়
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এসএম মোস্তাইন হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে জুরাইনের বরইতলী রেললাইন এলাকা থেকে মেহেদী হাসান বাপ্পিকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে জুরাইনের নোয়াখাইল্যাপট্টি এলাকা থেকে নুর আলম বারেককে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই করা একটি মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পিবিআই।
একজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেফতার দুজন একটি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তাঁদের মধ্যে মেহেদী হাসান বাপ্পি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদ ও ওই জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআই আরও জানায়, বাপ্পির বিরুদ্ধে রাজধানীর শ্যামপুর ও কদমতলী এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় চারটি মামলা রয়েছে। নুর আলম বারেকের বিরুদ্ধেও কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
তবে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।








