বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘লর্ড মিঠুন’ শব্দটি কীভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তাঁর মতে, মোহাম্মদ মিঠুনকে ঘিরেই এই বিদ্রূপাত্মক শব্দের প্রচলন শুরু হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার চাপ সামলাতে না পারা এবং পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব মিঠুনের জাতীয় দলে জায়গা হারানোর অন্যতম কারণ ছিল বলে মনে করেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে মিঠুন সর্বশেষ খেলেছেন ২০২১ সালে। ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে তাঁকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালে আবারও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সফরে ডাক পান এই ক্রিকেটার। তবে কোনো ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি।
মিঠুনকে ঘিরে ‘লর্ড’ শব্দের প্রচলন
যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাবিবুল বাশার বলেন, মিঠুনকে ঘিরে সমালোচনার প্রভাব নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের চেয়ে ক্রিকেটারের নিজের ওপর বেশি পড়েছিল। তাঁর ভাষ্য, ‘লর্ড মিঠুন’ শব্দটি মিঠুনকে দিয়েই শুরু হয়েছিল।
হাবিবুলের মতে, মিঠুন ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা সংবেদনশীল ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন বলেও জানান সাবেক এই নির্বাচক। তাঁর ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনা মিঠুনের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল।
জাতীয় দলে মিঠুনের পারফরম্যান্স কেমন ছিল?
বাংলাদেশের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। এর মধ্যে ১০টি টেস্ট, ৩৪টি ওয়ানডে এবং ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে।
টেস্টে ১০ ম্যাচে ৩৩৩ রান করেছেন তিনি। এই সংস্করণে তাঁর ব্যাটিং গড় ১৮.৫। ওয়ানডেতে ৩৪ ম্যাচে ৭১৪ রান করেছেন মিঠুন, গড় ২৭.৪৬ এবং স্ট্রাইক রেট ৭৭.৫২। অন্যদিকে ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১২৭ রান, ব্যাটিং গড় ১০.৫৮ এবং স্ট্রাইক রেট ৯৩.৩৮।
এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে জাতীয় দলে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন দাবি করেন, ভালো পারফরম্যান্স করার পরও তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রভাব কম থাকাও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ধারাবাহিকতার অভাব ছিল বড় সমস্যা
মিঠুনের ব্যাটিং দক্ষতার প্রশংসা করলেও তাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাবিবুল বাশার। তাঁর মতে, মিঠুনের শট খেলার দক্ষতা ভালো ছিল এবং তিনি পরিষ্কারভাবে বল মারতে পারতেন। বিশেষ করে ছক্কা মারার সামর্থ্যও ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে সেই সামর্থ্য নিয়মিত রান করে প্রমাণ করতে পারেননি মিঠুন, এমনটাই মনে করেন হাবিবুল। তাঁর বক্তব্য, ক্রিকেটার ধারাবাহিকভাবে রান করতে পারলে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া নির্বাচকদের জন্য সহজ নয়। মিঠুনের ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতা সব সময় দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে মিঠুনের দাবি
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার অভাবকে কারণ হিসেবে দেখেছিলেন মিঠুন। তবে হাবিবুল বাশার সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে, মিঠুনের পারফরম্যান্সই তখন দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় বিবেচ্য বিষয় ছিল।
মিঠুনের প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ না থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো খেলার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন সাবেক এই নির্বাচক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা মিঠুনের ওপর প্রভাব ফেলেছিল, আর ধারাবাহিকতার অভাবও তাঁর ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা মিঠুন ২০২৬ সালে ‘এ’ দলে ডাক পেলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আবারও নতুনভাবে শুরু হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।









