GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / পুষ্টিকর ৫ খাবার অতিরিক্ত খেলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

পুষ্টিকর ৫ খাবার অতিরিক্ত খেলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

#

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পালংশাক, বিটরুট, বাদাম, নির্দিষ্ট কিছু মাছ ও প্রাণীর কলিজা অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষেত্রে তাই সতর্ক থাকা জরুরি।

এসব খাবারে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কিন্তু খাবারের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

১. পালংশাক ও বিটরুট

পালংশাক ও বিটরুট পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পালংশাকসহ কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারে অক্সালেট নামের প্রাকৃতিক যৌগ থাকে। এই যৌগ প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সালেটজাতীয় কিডনিতে পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে বা এ ধরনের সমস্যা হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তবে সবার জন্য এসব খাবার সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

২. টুনা ও কিছু সামুদ্রিক মাছ

মাছ প্রোটিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস। তবে সব মাছের মধ্যে পারদের পরিমাণ সমান নয়। টুনাসহ কিছু বড় শিকারি মাছের শরীরে তুলনামূলক বেশি পারদ জমতে পারে।

পারদ একটি বিষাক্ত ধাতু। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পারদের সংস্পর্শে থাকলে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। তাই উচ্চ পারদযুক্ত মাছ ঘন ঘন বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার পরিবর্তে মাছের ধরন ও পরিমাণে বৈচিত্র্য রাখা ভালো।

বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তি এবং ছোট শিশুদের মাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।

৩. প্রাণীর কলিজা ও ভিটামিন এ

প্রাণীর কলিজায় সক্রিয় বা প্রিফর্মড ভিটামিন এ প্রচুর পরিমাণে থাকে। শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য এই ভিটামিন প্রয়োজন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রিফর্মড ভিটামিন এ গ্রহণ করলে শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এতে লিভারের ক্ষতিসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ক্ষেত্রে গাজর ও মিষ্টি আলুর বিষয়টি আলাদা। এসব খাবারে বিটা-ক্যারোটিন থাকে, যা শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। তাই প্রাণীর কলিজা থেকে অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণের ঝুঁকির সঙ্গে গাজর বা মিষ্টি আলু খাওয়ার ঝুঁকিকে এক করে দেখা ঠিক নয়।

৪. কাঠবাদাম, আখরোট ও কাজুবাদাম

বাদামে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, আঁশ এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

তবে বাদামে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। একবারে অনেক বেশি বাদাম খেলে শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত বাদাম খেলে কারও কারও পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ করে বাদাম খাওয়ার পরিমাণ বাড়ালে এ ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

৫. অক্সালেটসমৃদ্ধ কিছু বাদাম

কিছু বাদামেও অক্সালেট থাকে। যাদের ক্যালসিয়াম অক্সালেটজাতীয় কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের অক্সালেটের পরিমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।

তবে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমানোর জন্য সব ধরনের বাদাম বা অক্সালেটযুক্ত খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবসময় প্রয়োজন হয় না। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও পাথরের ধরন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্থ থাকতে কী করবেন?

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু পুষ্টিগুণ বিবেচনা করলেই হবে না। খাবারের পরিমাণ, বৈচিত্র্য এবং খাওয়ার অভ্যাসের দিকেও নজর দিতে হবে।

ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য, মাছ, অন্যান্য প্রোটিনের উৎস এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার মিলিয়ে সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা ভালো। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকলে।

যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে, লিভারের সমস্যা রয়েছে বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে, তাদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত।

মনে রাখতে হবে, কোনো খাবারই শুধু পুষ্টিকর হওয়ার কারণে সীমাহীন পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ হয়ে যায় না। পরিমিতি, বৈচিত্র্য এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের প্রয়োজন বুঝে খাবার নির্বাচন করাই সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।

সূত্র: সামা টিভি

Social Icons