GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / কেউ আপনাকে অপছন্দ করে কিনা বুঝবেন যেসব লক্ষণে

কেউ আপনাকে অপছন্দ করে কিনা বুঝবেন যেসব লক্ষণে

বন্ধুত্বের সম্পর্ক সব সময় এক রকম থাকে না। কারও সঙ্গে সম্পর্ক আন্তরিক হলেও কখনো কখনো তার আচরণে দূরত্ব, ঈর্ষা কিংবা উদাসীনতা প্রকাশ পেতে পারে। কিছু আচরণ দেখে মনে হতে পারে, কেউ হয়তো আপনাকে পছন্দ করছেন না। তবে একটি-দুটি ঘটনা দেখেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। বরং দীর্ঘদিনের আচরণ ও সম্পর্কের ধরন খেয়াল করা জরুরি।

টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর জোশ এবং কয়েকজন মনোবিজ্ঞান ও সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণে বন্ধুত্বের কিছু সমস্যার কথা উঠে এসেছে। এসব আচরণ সম্পর্কের মধ্যে অস্বস্তি বা পারস্পরিক দূরত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে।

১. আপনার সাফল্যকে ছোট করে দেখা

আপনি কোনো কাজে সফল হলে বা নতুন কোনো অর্জনের কথা জানালে কেউ যদি বারবার সেটিকে তুচ্ছ করে দেখেন, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করার মতো। আপনার আনন্দে অংশ নেওয়ার বদলে তিনি যদি সাফল্যের গুরুত্ব কমিয়ে দেন, তবে সম্পর্কের মধ্যে ঈর্ষা বা প্রতিযোগিতার মনোভাব থাকতে পারে।

২. নিজে থেকে কখনো যোগাযোগ না করা

বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষেরই কিছুটা উদ্যোগ প্রয়োজন। আপনি সব সময় ফোন করেন, খোঁজ নেন বা দেখা করার পরিকল্পনা করেন, কিন্তু অন্য ব্যক্তি কখনোই নিজে থেকে যোগাযোগ করেন না, তাহলে সম্পর্কটি একতরফা হয়ে উঠছে কি না ভেবে দেখা যেতে পারে।

তবে ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা যোগাযোগের ভিন্ন অভ্যাসের কারণেও এমন হতে পারে। তাই শুধু এই একটি লক্ষণ দিয়ে কারও মনোভাব বিচার করা উচিত নয়।

৩. অন্যদের সঙ্গে ভালো, আপনার সঙ্গে উদাসীন

কেউ সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললেও আপনার সঙ্গে বারবার ঠান্ডা বা উদাসীন আচরণ করতে পারেন। আপনার কথা এড়িয়ে যাওয়া, কথোপকথনে আগ্রহ না দেখানো কিংবা প্রয়োজনের সময় দূরত্ব বজায় রাখা সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হতে পারে।

এ ধরনের আচরণ নিয়মিত ঘটছে কি না এবং এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

৪. সব বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা

আপনার কোনো অর্জনের কথা শুনে কেউ যদি নিজের অর্জনের সঙ্গে তুলনা শুরু করেন, সবকিছুতে আপনাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কিংবা আপনার ভালো খবরকে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখেন, তাহলে সম্পর্কের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে।

সুস্থ বন্ধুত্বে একে অপরের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রয়োজনে উৎসাহিত করার সুযোগ থাকে।

৫. সবার সামনে দুর্বলতা নিয়ে উপহাস করা

বন্ধুত্বের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ যদি বারবার আপনার ব্যক্তিগত দুর্বলতা, অনিশ্চয়তা বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে অন্যদের সামনে উপহাস করেন, তাহলে তা অসম্মানজনক আচরণ হতে পারে।

আপনি এতে কষ্ট পাচ্ছেন জানার পরও তিনি একই আচরণ চালিয়ে গেলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

৬. আপনার সাধারণ কথারও নেতিবাচক ব্যাখ্যা করা

কেউ যদি আপনার স্বাভাবিক কথাবার্তাকেও বারবার ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন, উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন কিংবা সামান্য বিষয়েও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান, তাহলে সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে কি না তা বিবেচনা করা যায়।

তবে ভুল বোঝাবুঝি সব সম্পর্কেই হতে পারে। তাই অনুমানের বদলে খোলামেলা আলোচনা করা বেশি কার্যকর।

বন্ধুত্বে পারস্পরিক শ্রদ্ধা কেন জরুরি

সম্পর্কবিষয়ক থেরাপিস্ট জেনি ওয়ারউইকের মতে, রাজনীতি কিংবা সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষের মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতা না থাকলে বন্ধুত্বে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, কাউন্সেলর ডোনা মরগান সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একটি সম্পর্কে একজনই যদি নিয়মিত সময়, আবেগ ও শ্রম দেন এবং অন্যজন ধারাবাহিকভাবে উদাসীন থাকেন, তাহলে হতাশা ও অবমূল্যায়িত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

শুধু নিজের সমস্যা নিয়ে কথা বলাও হতে পারে সমস্যা

বন্ধুত্বের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো সম্পর্ককে একমুখী করে তোলা। কেউ যদি সব সময় নিজের কষ্ট ও সমস্যার কথা বলেন, কিন্তু বন্ধুর কথা শোনার বা তার দেওয়া পরামর্শ বিবেচনা করার আগ্রহ না দেখান, তাহলে দুজনের মধ্যেই মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।

কাউন্সেলিং ডিরেক্টরির সদস্য আবিগেইল হোলম্যানের মতে, এ ধরনের একমুখী নির্ভরতা সম্পর্কের উভয় পক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে

কেউ আপনাকে অপছন্দ করেন কি না, তা শুধু মুখের অভিব্যক্তি বা একটি আচরণ দেখে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। ব্যক্তির পরিস্থিতি, যোগাযোগের ধরন এবং দীর্ঘদিনের আচরণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কোনো সম্পর্ক আপনাকে নিয়মিত কষ্ট দিলে শান্তভাবে নিজের অনুভূতি জানাতে পারেন। একই সঙ্গে অপর পক্ষের কথাও শোনার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত সীমারেখা নির্ধারণ করুন এবং যে সম্পর্ক আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করছে, সেটি নিয়ে নতুন করে ভাবুন।

সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন

Social Icons