GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রথম পাতা / এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ, ধর্মঘট প্রত্যাহার

এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ, ধর্মঘট প্রত্যাহার

এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়া এবং ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মসূচি পালন করা এলপিজি সমবায় ব্যবসায়ী সমিতি ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে গ্যাসের দাম কমানো এবং বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ভোক্তাদের জন্য এলপিজির দাম সহনীয় রাখতে সরকার কাজ করছে।

কমিশন নিয়ে ২৯ অক্টোবর গণশুনানি

এলপিজি বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে এলপিজি সমবায় ব্যবসায়ী সমিতি। বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি আয়োজন করবে বিইআরসি।

সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের কোরাইশী অভিযোগ করেন, অপারেটররা চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ করছেন না। পাশাপাশি কিছু বিক্রেতা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন।

তিনি জানান, দেশের অন্যতম অপারেটর ওমেরা এলপিজির মিলগেট পর্যায়ে একটি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭৪২ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহণ খরচ, দোকানের কর্মীদের ব্যয় এবং গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার খরচ যুক্ত হয়। ফলে প্রতি সিলিন্ডারের মোট ব্যয় প্রায় ২ হাজার টাকায় পৌঁছে যায়। তবে বাজারে এই দামেও সব সময় এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সরবরাহ সংকটে বাড়ছে দাম

জেএমআই এলপিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাকের মতে, দেশে এলপিজির সংকট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি সুবিধা নিচ্ছেন। এতে বাজারে দাম বাড়ছে।

বৈঠকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও গত মাসে দেশের চাহিদা পূরণের জন্য প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। এরপরও বাজারে সংকট এবং বেশি দামের কারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অপারেটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষসহ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সরবরাহ ব্যবস্থায়।

আমদানি বাড়াতে কোম্পানিগুলোকে অনুরোধ

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়, সরকার এলপিজি আমদানির ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আমদানি করে বাজারে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এরপরও কিছু প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি করছে না বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক জানিয়েছেন, বাজারে স্বস্তি ফেরাতে অপারেটররা চেষ্টা করছেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, অক্টোবর মাসের চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আমদানি স্বাভাবিক রাখতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আইগ্যাস, মেঘনা (ফ্রেশ), যমুনা স্পেসটেক, পেট্রোমেক্স, বিএম এনার্জি ও ওমেরাসহ বিভিন্ন কোম্পানিকে আমদানি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন জ্বালানি ও বাণিজ্যমন্ত্রী।

চাহিদা বাড়লেও মজুতের সক্ষমতা সীমিত

একজন এলপিজি অপারেটরের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর সঙ্গে শিল্প খাতে নতুন চাহিদা যুক্ত হয়েছে, যা প্রায় ২০ শতাংশ। অথচ দেশের সব কোম্পানি মিলিয়ে এলপিজি মজুতের সক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার টন।

তার মতে, মজুতের সীমিত সক্ষমতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে দেশের জ্বালানি বাজারেও দ্রুত অস্থিরতা তৈরি হয়।

জানা গেছে, এলপিজি সংকট নিয়ে জ্বালানি ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লোয়াব নেতাদের এক ঘণ্টার মতো বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তাগিদে বুধবারের বৈঠকটি আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর ও ৩ অক্টোবরও এলপিজি সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে লোয়াব নেতাদের বৈঠক হয়েছিল।

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে এলপিজির চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন। ২০৩৫ সাল নাগাদ এই চাহিদা বেড়ে ৪০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।

Social Icons