যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে দেওয়া এই ঘোষণার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ অবস্থানের কথা জানান।
৩ নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না।
এর আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে একই সঙ্গে দেশটির বিরুদ্ধে আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নতুন ঘোষণায় আপাতত নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর কথা জানালেও দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির দাবি
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।
তবে আলোচনায় কী কী বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে কিংবা দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা
গত মাসের শেষ দিকে ইরানের একটি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করার পর দুই দেশের আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিতে চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বা বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
পাল্টা প্রস্তাব পেয়েছে ইরান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইরান জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি পাল্টা প্রস্তাব পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে পারবে।
ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণা এবং আলোচনায় অগ্রগতির দাবি দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে ইরানের জবাব এবং পরবর্তী আলোচনার ফলাফলের ওপর পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।
সূত্র: এনডিটিভি, যুগান্তর আন্তর্জাতিক ডেস্ক।









