GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / প্যারিসকে ‘মুসলিম নগরী’ বললেন ট্রাম্প, ম্যাক্রোঁকে আক্রমণ

প্যারিসকে ‘মুসলিম নগরী’ বললেন ট্রাম্প, ম্যাক্রোঁকে আক্রমণ

ফ্রান্সের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে আক্রমণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বর্তমান অভিবাসন নীতি অব্যাহত থাকলে প্যারিস দ্রুত একটি ‘মুসলিম নগরী’তে পরিণত হতে পারে। ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতার জন্যও ম্যাক্রোঁর সীমান্তনীতি ও অভিবাসন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের অভিযোগ, ফ্রান্সের সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এতে দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, প্যারিস খুব শিগগিরই একটি মুসলিম নগরীতে পরিণত হতে পারে। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

ম্যাক্রোঁর অভিবাসন নীতির সমালোচনা

ফ্রান্সের বর্তমান সংকটের পেছনে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর অভিবাসন নীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সময়ই এ নীতির সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, ম্যাক্রোঁকে তিনি আট বা নয় বছর ধরে চেনেন। প্রথম সাক্ষাতেই ফ্রান্সের সীমান্তনীতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। নিজের প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, কিন্তু ফ্রান্স একই পথে হাঁটেনি।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ফ্রান্সে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

ফ্রান্সজুড়ে অস্থিরতা ও সহিংসতা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের একাধিক শহরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিছু এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সহিংসতার সময় সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় এক হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতা ও ভাঙচুরের নিন্দা জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফরাসি সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ ও জনঅসন্তোষের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে ম্যাক্রোঁ প্রশাসন।

অভিবাসন নীতিই কি সংকটের একমাত্র কারণ?

ফ্রান্সের অস্থিরতাকে অভিবাসন নীতির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে শিথিলতার কারণে দেশটিতে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে শুধু অভিবাসন নীতিকে দায়ী করা যায় না। অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার ওপর চাপ এবং তরুণদের অসন্তোষও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, ডানপন্থি রাজনীতিবিদদের একটি অংশ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার দাবি জানাচ্ছেন। তবে ফ্রান্সের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো অস্থিরতার পেছনে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে বিতর্ক চলছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের অভিবাসন নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্ক আরও সামনে এসেছে। তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

Social Icons