GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ধর্ম ও সমাজ / ইসলাম ও জীবন / আল্লাহর ওলির সঙ্গে শত্রুতার পরিণতি কী? সহিহ বুখারির হাদিসে সতর্কবার্তা

আল্লাহর ওলির সঙ্গে শত্রুতার পরিণতি কী? সহিহ বুখারির হাদিসে সতর্কবার্তা

ইসলামে আল্লাহর নেককার বান্দাদের মর্যাদা ও তাঁদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলেম-ওলামা ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ, তাঁদের অপমান করা কিংবা তাঁদের সঙ্গে শত্রুতা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র হাদিসে আল্লাহর ওলির সঙ্গে শত্রুতা করার পরিণতি সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ইসলামি বিশেষজ্ঞ মুফতি ইসহাক মাহমুদ আল্লাহর ওলিদের সঙ্গে শত্রুতার বিষয়ে সহিহ বুখারির একটি হাদিস তুলে ধরেছেন। তিনি জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুরের মুফতি ও মুহাদ্দিস।

আল্লাহর ওলির সঙ্গে শত্রুতা নিয়ে হাদিসে কী বলা হয়েছে?

সহিহ বুখারির ৬৫০২ নম্বর হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—যে ব্যক্তি তাঁর কোনো ওলির সঙ্গে শত্রুতা করবে, আল্লাহ তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেবেন।

হাদিসটিতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায় সম্পর্কেও বলা হয়েছে। প্রথমে ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়। এরপর নফল ইবাদতের মাধ্যমে সে আরও নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। একপর্যায়ে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন সেই বান্দা তাঁর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা দান করেন এবং তাঁর আশ্রয় চাইলে তাকে আশ্রয় দেন।

ফরজ ও নফল ইবাদতের গুরুত্ব

উল্লিখিত হাদিসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে ফরজ ইবাদতকে প্রথমে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপর নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করার কথা এসেছে।

অর্থাৎ, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ফরজ দায়িত্ব পালন এবং অতিরিক্ত ইবাদতে যত্নবান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটিতে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মর্যাদার পাশাপাশি ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

আলেমদের সঙ্গে বিরোধ হলে কীভাবে আচরণ করা উচিত?

আলেম-ওলামা বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি কীভাবে সামলানো উচিত, সে ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত ও শালীন আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। কারও বক্তব্য বা কাজের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও অপমান, বিদ্বেষ কিংবা অন্যায় আচরণকে সমর্থন করা যায় না।

একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে আলেম বা নেককার হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণে তাঁর প্রতিটি বক্তব্য বা কাজের সমালোচনার ঊর্ধ্বে মনে করাও ঠিক নয়। মতবিরোধের ক্ষেত্রে বক্তব্য, প্রমাণ ও আচরণ বিবেচনা করে ন্যায়সংগতভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।

আল্লাহর ওলির সঙ্গে শত্রুতার বিষয়ে হাদিসের সতর্কবার্তা ব্যাখ্যা করার সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। কারও অন্তরের অবস্থা বা আল্লাহর কাছে তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রশ্নের উত্তরে মুফতি ইসহাক মাহমুদের বক্তব্য

আলেম-ওলামা ও আল্লাহওয়ালাদের সঙ্গে শত্রুতা পোষণকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা উল্লেখ করে মুফতি ইসহাক মাহমুদ সহিহ বুখারির হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন।

উত্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতাকারীদের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, হাদিসটিতে আল্লাহর নেককার বান্দাদের সঙ্গে শত্রুতার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা এবং ফরজ ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শিক্ষা রয়েছে। এ শিক্ষার আলোকে মানুষের সঙ্গে আচরণে ন্যায়, শালীনতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বও স্মরণ রাখা প্রয়োজন।

Social Icons