ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সংকেত দিয়েছেন, সংঘাতের অবসান ঘটাতে তেহরান নিজেদের শর্ত থেকে সরে আসবে না।
ইরানের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের অবসান এবং ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’—এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে ইরানের শর্তগুলো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খামেনি।
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্ত নিয়ে কী বললেন খামেনি?
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মোজতবা খামেনি। বৈঠকে সংঘাতের অবসান এবং বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে ইরানের শর্তগুলো নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, খামেনির বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নে ইরানের অবস্থান ও কৌশলগত লক্ষ্য ধরে রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার নির্দিষ্ট শর্ত, আলোচনার সময়সূচি কিংবা দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, খামেনি ও মোহসেন রেজাইয়ের বৈঠকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।
জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুরক্ষার সঙ্গে এই নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
খামেনির বার্তা নিয়ে কী বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট?
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে এবং এতে দেশের কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হয়েছে।
তিনি জানান, খামেনির নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে তাঁর সরকার নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে ইরানের নেতৃত্বের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ কোন পথে?
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতার আভাস থাকলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যে নিজেদের শর্ত বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রে তেহরানের শর্ত ও কৌশলগত লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি, সমঝোতার সম্ভাবনা কিংবা যুদ্ধ বন্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তাই কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
শেষ কথা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে ইরান নিজেদের শর্ত থেকে সরে আসবে না—এমন বার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয় উঠে আসে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতার নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর সরকার কাজ করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: প্রেস টিভি ও ইরনার তথ্যের ভিত্তিতে যুগান্তর প্রতিবেদন অবলম্বনে।









