ফেসবুক লাইভে সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, ‘আমার দেশ’ পত্রিকাকে নয়, বরং তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত মিথ্যা ও অসত্য বক্তব্যের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তিনি সংবাদপত্রটি ছিঁড়েছেন।
শনিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, ‘আমি একটি মিথ্যা ন্যারেটিভকে ছিঁড়েছি। হাসিনাপুত্রের সঙ্গে আমি এক হয়েছি মর্মে আমার দেশ পত্রিকা যে মিথ্যাচার করেছে, আমি সেই অসত্যকে ছিঁড়ে ফেলেছি।’
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে। তাঁর কোনো বক্তব্য কারও অপছন্দ হলে রাজনৈতিক ভাষায় সমালোচনা করার অধিকার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের রয়েছে। এমন সমালোচনাকে তিনি স্বাগত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
তবে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, পত্রিকাটি তাঁকে ‘নব্য বিএনপি’ বলতে পারে না। একইভাবে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলার অধিকারও সম্পাদকের নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের দাবি, জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার বৈঠক নিয়ে তিনি তথ্য সামনে আনার পর পাল্টা বক্তব্য হিসেবে তাঁর সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পর্ক রয়েছে বলে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ অভিযোগ জামায়াত বা দলটির নেতা গোলাম পরওয়ার সরাসরি করলে তিনি রাজনৈতিকভাবে জবাব দিতেন। কিন্তু ‘আমার দেশ’ পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হিসেবে তিনি বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেছেন। তাঁর দাবি, সংবাদপত্র ছেঁড়ার মাধ্যমে তিনি মিথ্যা ও অপবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এ সময় ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সাংবাদিকতার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর মতে, একটি সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি। তাঁর অভিযোগ, ‘আমার দেশ’ এসব নীতিমালা অনুসরণ করছে না।









