পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। দ্রুত বোর্ডের সভা আয়োজন করে বেতন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তবে নতুন বেতন কত নির্ধারণ করা হবে এবং কবে নাগাদ চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে, তা এখনো জানা যায়নি।
রোববার (১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী সরকার ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। রোববার থেকেই এ বোর্ড কার্যকর হচ্ছে।
নতুন বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের বর্তমান নিম্নতম মজুরি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সুপারিশ দেবে। শ্রমিক নেতা ও শিল্পমালিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বর্তমানে দেশের পোশাকশ্রমিকদের মাসিক নিম্নতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা এই বেতন বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, খাদ্য, বাসস্থান, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কারখানা বন্ধের ঘটনার মধ্যেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলো।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। শনিবার আশুলিয়ার প্রায় ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়ে কয়েকশ শ্রমিক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও বিক্ষোভের কারণে যান চলাচল ও কারখানার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, দ্রুত মজুরি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আলোচনা করে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর সতর্কতা, দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ এবং অর্থপ্রাপ্তিতে বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে।









