ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তরুণদের আন্দোলনের প্রশংসা করার পাশাপাশি তাদের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিল্লিতে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এর আগের দিন দিল্লিতে পৌঁছান মমতা।
বৈঠক শেষে মমতা জানান, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা তাদের পরবর্তী কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছেন। তরুণদের উদ্যোগ ও আন্দোলনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের নিয়ে তিনি গর্বিত। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও পথিকৃৎ হিসেবে তরুণদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মমতা বলেন, তরুণদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। দেশের জন্য তরুণেরা ভালো কাজ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কলকাতায় দলটি কোনো সভা আয়োজন করবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের বলেও জানান তৃণমূল নেত্রী।
অন্যদিকে, মমতার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভিজিৎ দীপক। তিনি জানান, যন্তর মন্তরে তাদের আন্দোলনের সময় থেকেই মমতা পাশে দাঁড়িয়েছেন। তরুণদের আন্দোলনে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছেন তিনি।
অভিজিতের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরভ ও আশুতোষকে গ্রেফতারের সময়ও মমতা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। এসব কারণে তাকে ধন্যবাদ জানাতেই এই সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।
অভিজিতের বক্তব্য শোনার পর তার পিঠে হাত রেখে মমতা বলেন, তরুণদের পাশে দাঁড়ানো তার নৈতিক দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর অভিজিৎ দীপককে আটক করে দিল্লি পুলিশ। জাতীয় পতাকা হাতে নেওয়ার কারণে তাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তখন দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীন ভারতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কেন আটক হতে হবে। ভিন্নমত প্রকাশকারীদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিজিৎ, আশুতোষ ও সৌরভকে ভারতের যুবসমাজের সাহস, বিবেক ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে মমতা বলেছিলেন, তাদের কণ্ঠরোধ করে গণতন্ত্রের চেতনাকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।









