ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী বছর শুরুর দিকেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এবারের নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় প্রভাব নেই, বিশেষ সুবিধাও নেই

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এ নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রভাব বা বিশেষ সুবিধা থাকবে না। চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরা নির্বাচিত হবেন জনগণের ভালোবাসা ও ভোটের মাধ্যমে।
স্থানীয় সরকারই গণতন্ত্রের ভিত্তি
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে স্থানীয় সরকার। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্র বা গণতন্ত্র কোনোটিই টেকসইভাবে শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি জানান, উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারের ভূমিকাই বড়—প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় বিচারব্যবস্থা এবং জনসেবার বড় অংশ সেখানেই পরিচালিত হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রে সুযোগ সৃষ্টি
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করা হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকারকে কার্যকর ও ক্ষমতায়িত করার তাগিদ দেন তিনি।
বরখাস্ত নয়, প্রমাণ ছাড়া অপসারণ নয়
অতীতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন অজুহাতে বরখাস্ত করার অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রমাণ ছাড়া ইচ্ছামতো একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে অপসারণ করা উচিত নয়। আইন ভঙ্গ বা অপরাধ প্রমাণিত হলেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জোর দেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ক্ষমতা, সম্পৃক্ততা ও স্বচ্ছতার কথা
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যথাযথ ক্ষমতায়ন ছাড়া স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে না বলে মত দেন তিনি। পাশাপাশি শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন। উন্নয়ন কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যুক্ত করার পরামর্শ দেন মির্জা ফখরুল। এতে উপকারভোগী নির্বাচন সহজ হবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে বলেও তিনি জানান। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা অপ্রতুল উল্লেখ করে নিজেও সাবেক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগের কথা বলেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সংগঠন গঠনের কথাও বলেন তিনি।
প্রশ্ন: নির্বাচন কীভাবে হবে—অবাধ নাকি নিরপেক্ষ?
উত্তর: মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।
প্রশ্ন: নির্বাচনে দলীয় প্রভাব থাকবে কি না?
উত্তর: তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো দলীয় প্রভাব বা বিশেষ সুবিধা থাকবে না।
প্রশ্ন: স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার মূল শর্ত কী?
উত্তর: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষমতায়ন এবং জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর সম্পৃক্ততা—এই বিষয়গুলোকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









