জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছেন। মামলার চাপ, দীর্ঘসূত্রিতা আর বিচারপ্রার্থীদের হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মামলার চাপ বাড়লেও বিচারপতি কম

আবেদনে শিশির মনির বলেছেন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি হয়েছে। মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজমান।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সমন্বয়ে সুপ্রিম কোর্টের যাত্রা শুরু হয়। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তবে আপিল বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতির নির্দিষ্ট সংখ্যা সংবিধানে উল্লেখ নেই—এ বিষয়ে ৯৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনবোধের কথা বলা হয়েছে।
প্রথম দিকের তুলনায় আজকের বাস্তবতা
শিশির মনির দেখিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর চারজন বিচারপতির সমন্বয়ে কার্যক্রম শুরু করে। তখন বিচারাধীন মামলা ছিল ৪ হাজার ৫৬টি। দেশের জনসংখ্যা তখন প্রায় ৬ কোটি ৪৩ লাখ।
বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লাখ, বিচারাধীন মামলা বেড়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৭১৩টিতে পৌঁছেছে। অথচ বিচারপতির সংখ্যা মাত্র চারজন—এখানেই ব্যবধান চোখে পড়ে বলে তিনি জানান।
এছাড়া তিনি সময়ভিত্তিক কিছু তথ্যও তুলে ধরেন—২০০৯ সালে আপিল বিভাগে বিচারপতি ছিলেন ১১ জন, মামলা ছিল ৫ হাজার ২৬০টি; ২০১১ সালে বিচারপতি ১০ জন, মামলা ১২ হাজার ৪৪১টি; ২০১৩ সালে বিচারপতি ১০ জন, মামলা ১৪ হাজার ৩৩৮টিতে ওঠে; ২০১৭ সালে বিচারপতি ৯ জন, মামলা ১৬ হাজার ৫৬৫টিতে; ২০২২ সালে বিচারপতি ৯ জন, মামলা ১৯ হাজার ৯২৮টিতে। ২০২৪ সালে বিচারাধীন মামলা ৩১ হাজার ১২০টিতে বাড়লেও বিচারপতি ছিলেন ৮ জন।
বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে
শিশির মনির বলেন, আইনের বিশেষায়িত শাখা ও ক্ষেত্রগুলো বিকশিত হয়েছে। ফলে বিচারের ক্ষেত্রেও বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন করা জরুরি। কিন্তু বিচারপতির সংখ্যা কম হওয়ায় প্রয়োজনের মতো বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন সম্ভব হচ্ছে না।
ভারতের উদাহরণ টেনে কার্যকর নিয়োগের আহ্বান
আবেদনে তিনি প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে দৃষ্টিও দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত গত ১৬ মে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে। সেখানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির অনুমোদিত সংখ্যা ৩৪ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ করা হয় বলে আবেদনে বলা হয়েছে।
এ অবস্থায় বিচারাধীন মামলার ক্রমবর্ধমান চাপ কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির নিয়োগ দিতে রাষ্ট্রপতিকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
যেভাবে আবেদন পাঠানো হয়
আবেদনটি বুধবার (২২ জুলাই) আইন সচিবের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতের কাছে পেশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের ভিত্তি সংবিধানে কীভাবে উল্লেখ আছে?
উত্তর: সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনবোধ অনুযায়ী আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: শিশির মনিরের মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: মামলার সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও আপিল বিভাগের বিচারপতি সংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়ছে না, ফলে দীর্ঘসূত্রিতা ও বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠনে বাধা তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









