GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / পদ্মা সেতুর প্রভাবে যশোরে ফ্লাইট বন্ধ

পদ্মা সেতুর প্রভাবে যশোরে ফ্লাইট বন্ধ

যশোর বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধের প্রভাব ও বিমানযাত্রী সংখ্যা কমার চিত্র

যশোর বিমানবন্দরের আকাশপথ এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে। পদ্মা সেতুর প্রভাবে ঢাকার সঙ্গে যশোরের যাতায়াত বদলে যাওয়ার পর থেকেই যাত্রী টানতে হিমশিম খাচ্ছে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো। ফলে একের পর এক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধের পথে হাঁটছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

যাত্রী কমায় রুট সাময়িক বন্ধ ইউএস-বাংলার

যশোর বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধের প্রভাব ও বিমানযাত্রী সংখ্যা কমার চিত্র

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেছেন, যাত্রী সংকটের কারণেই তারা যশোর রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। আগে ঢাকা-যশোর রুটে প্রতিদিন কয়েকটি ফ্লাইট চললেও যাত্রী কমতে থাকায় সেগুলো ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়। শেষ পর্যন্ত যেটুকু ফ্লাইট ছিল সেটিও লাভজনক থাকেনি।

তিনি জানান, একটি ফ্লাইট পরিচালনায় উড়োজাহাজের আসনের অন্তত সত্তর শতাংশ পূর্ণ থাকা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে পঞ্চাশ শতাংশের বেশি—এমন চিত্র ছিল না। জ্বালানি, জনবলসহ পরিচালন ব্যয়ও তখন উঠে আসছিল না।

পদ্মা সেতুর পর যশোর বিমানবন্দরে যাত্রী পতন

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই যশোর বিমানবন্দরের যাত্রী সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বিমানবন্দরটি দিয়ে যাতায়াত করেন মোট চার লাখের বেশি যাত্রী। এর মধ্যে ঢাকা থেকে যশোর যান দুই লাখের কিছু বেশি, আর যশোর থেকে ঢাকায় আসেন আরও কিছু বেশি।

এরপর ২০২২ সালের শেষভাগে পদ্মা সেতুর প্রভাব পুরোপুরি পড়তে শুরু করলে পরের অর্থবছর থেকে পতনের গতি স্পষ্ট হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যাত্রী সংখ্যা নেমে আসে দুই লাখের কাছাকাছি। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেটি আরও কমে মাত্র কয়েক দশ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ কয়েক অর্থবছরের ব্যবধানে যশোর বিমানবন্দরে যাত্রী কমেছে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি।

বিমান বাংলাদেশই এখন চালাচ্ছে সীমিত ফ্লাইট

যাত্রী সংকটের কারণে বেসরকারি সংস্থাগুলো ফ্লাইট স্থগিত করলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকেই এখন তুলনামূলকভাবে বেশি ভরসা করছে যাত্রীরা। বর্তমানে যশোর রুটে সপ্তাহে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। অর্থাৎ আকাশপথের চাহিদা যেমন কমেছে, তেমনি ফ্লাইটের সংখ্যাও ধীরে ধীরে গুটিয়ে এসেছে।

সড়কপথে সুবিধা, তাই আকাশ আর প্রয়োজন হচ্ছে না

ঢাকা-যশোর রোডে সময় ও ভোগান্তি কমে আসায় অনেকেই আকাশপথ ছেড়ে দিচ্ছেন। যশোর সদরে গ্রামের বাড়ি জামিল খানের। তিনি জানান, আগে ঈদের ছুটিসহ যেকোনো সময় সড়কপথে যেতে গেলে ভোগান্তি পোহাতে হতো—বিশেষ করে মাওয়া ফেরিঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা অনেক সময় লাগত। তাই সামর্থ্য ভালো যাদের ছিল, তারা আকাশ পথে যেতেন।

পদ্মা সেতু চালুর পর স্বল্প সময়েই সড়ক পথে যশোরে যাওয়ার সুযোগ হওয়ায় আকাশ যাত্রা এখন আর পছন্দের তালিকায় নেই বলেও জানান তিনি। উত্তরার একটি ট্রাভেল এজেন্সির স্বত্বাধিকারী সামিউল ইসলামও একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তার এজেন্সি থেকে আগে টিকিট কাটতেন যাদের, অনেকেরই এখন ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। সেতুর পর সেই গাড়িতেই তারা পরিবারের সঙ্গে গ্রামে যাচ্ছেন।

ঢাকা-যশোর রুটে এভাবে সড়ক-রেল সুবিধা জোরালো হওয়ায় ফ্লাইট টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ফলে যশোর বিমানবন্দরের আকাশপথে স্বস্তি ফেরাতে হলে আবার যাত্রী টানার চিত্র বদলানোর দিকেই নজর দিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

বারবার প্রশ্ন উঠছে—ভবিষ্যৎ কী হবে?

ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ কী? যাত্রী সংকট এবং দীর্ঘদিন ধরে আসন পূরণ না হওয়া।

পদ্মা সেতুর প্রভাব কীভাবে পড়েছে? দ্রুত সড়ক ও রেল যোগাযোগের ফলে ঢাকা-যশোর যাতায়াতে আকাশপথের চাহিদা কমেছে।

কোন এয়ারলাইন্স এখন সীমিতভাবে রুট চালাচ্ছে? বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons