GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রবাসের খবর / মধ্যপ্রাচ্য / সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তিতে কী আছে

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তিতে কী আছে

পারমাণবিক চুল্লি ও চুক্তি আলোচনার একটি দৃশ্য

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় ইসরায়েল। দুই দেশ বুধবার এ চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এর মূল লক্ষ্য হবে বেসামরিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে সৌদি আরবের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন মেটাতে জ্বালানি সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা।

চুক্তিতে মূল উদ্দেশ্য কী

পারমাণবিক চুল্লি ও চুক্তি আলোচনার একটি দৃশ্য

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এ চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সমৃদ্ধ করার পথে সুবিধা পেতে পারে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনে বেসামরিক কর্মসূচির সক্ষমতা তৈরির দিকেই জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

ইরানকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এই প্রেক্ষাপটে নতুন চুক্তিকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ব্যবসায় সম্ভাবনা

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পে বড় আকারের বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পারমাণবিক চুল্লির নকশা ও রপ্তানিতে যাদের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের শুরুতে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।

কিছু মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তা শিগগিরই মার্কিন কংগ্রেসের সামনে বিস্তারিত আকারে উপস্থাপন করা হবে। আর সে প্রক্রিয়ায় রিপাবলিকান দলের অনেক সদস্যের সমর্থন মিলতে পারে—এমন ধারণাও আছে।

ইসরায়েল কেন উদ্বিগ্ন

তবে উদ্বেগের জায়গাটি অন্যত্র। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—দুই দলেরই কিছু আইনপ্রণেতা এবং ইসরায়েলের কর্মকর্তারা পরিকল্পনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের আশঙ্কা, বেসামরিক সহযোগিতার আড়ালে ভবিষ্যতে সৌদি আরবের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা তৈরি হয়ে যেতে পারে।

এই আশঙ্কা থেকেই ইসরায়েলের অবস্থান কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, পারমাণবিক জ্বালানি ও প্রযুক্তির সঙ্গে সক্ষমতা তৈরি হলে সেটির অপব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে সব পক্ষই সতর্ক থাকে।

কংগ্রেসে যাবে, ভোটে কীভাবে এগোবে

চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনায় যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটমিক এনার্জি আইনের নিয়ম অনুযায়ী, কংগ্রেস চাইলে আপত্তির প্রস্তাবে ভোটের সুযোগ থাকে। তবে বাস্তবতা হলো—প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে হলে কংগ্রেসকে ভেটো অতিক্রম করার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে হবে। তাই অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি।

এ চুক্তি কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় ছিল। জো বাইডেন প্রশাসনের সময় এটিকে একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক প্যাকেজের অংশ হিসেবেও দেখা হয়েছিল—যেখানে সৌদি আরবের ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত থাকত। কিন্তু ২০২৩ সালের হামলার পর সেই সম্ভাবনা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার প্রস্তাব থেকে স্বীকৃতির শর্তটি সরিয়ে দেন।

প্রবাসীদের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন

এ চুক্তি সৌদি বিদ্যুৎ উৎপাদনে কী ভূমিকা রাখতে পারে?
কথা হচ্ছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সমৃদ্ধির দিকেই সুবিধা মিলতে পারে।

ইসরায়েল কেন সবচেয়ে বেশি আপত্তি করছে?
তাঁদের আশঙ্কা, বেসামরিক কর্মসূচি থেকে ভবিষ্যতে অস্ত্র সক্ষমতার পথ খুলে যেতে পারে।

চুক্তিটি কি এখনই কার্যকর হবে?
না। কংগ্রেসের পর্যালোচনা শেষে কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons