ডিএসইর সাবেক এক কর্মকর্তাকে অগ্রিম নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি, বিএসইসিতে পদক্ষেপের নির্দেশ

বৃহস্পতিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। উপসচিব ফারজানা জাহানের সই করা চিঠিটি বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ডিএসইর সাবেক ডিজিএম মো. আব্দুল লতিফ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক বেআইনি ও একতরফা চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন শীর্ষক একটি আবেদন জমা দেন। আবেদনটি পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
চিঠির সঙ্গে আবেদনপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে চিঠির অনুলিপি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব, অতিরিক্ত সচিব (বীমা ও পুঁজিবাজার অনুবিভাগ) এবং আবেদনকারী মো. আব্দুল লতিফের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই অব্যাহতির অভিযোগ
আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুন ডিএসইর জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের ডিজিএম মো. আব্দুল লতিফ ও হোসনে আরা পারভীন, আইসিটি বিভাগের জিডিএম শাহিন সারওয়ার এবং ইনভেস্টর প্রকেক্টশন ফান্ডের সমন্বয়ক ডিজিএম আবদুর রাজ্জককে কোনো ধরনের অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়।
এ ক্ষেত্রে তার দাবি, ডিএসই কর্তৃপক্ষ ‘পদের আর প্রয়োজনীয়তা নেই’—এমন একটি কারণ দেখিয়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করে অব্যাহতি দেয়। তবে তার মতে, পূর্ব নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
শ্রম আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের দাবি
আবেদনে মো. আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে ডিএসইতে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকরিকালে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ অবস্থায় কারণ দর্শানো নোটিশ বা শুনানির সুযোগ ছাড়া চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত শ্রম আইন, চাকরির বিধিমালা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নীতিমালার পরিপন্থি বলে তার অভিযোগ।
তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিনের একজন স্থায়ী কর্মকর্তাকে এভাবে আকস্মিক অব্যাহতি দেওয়া শুধু আইনবিরোধী নয়, মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি ও তার পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার দীর্ঘদিনের পেশাগত ও সামাজিক সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুনর্বহাল ও প্রাপ্য সুবিধার আবেদন
ডিএসইর চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বাতিল এবং চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ তাকে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার পদে পুনর্বহালের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এখন এ বিষয়টি বিএসইসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে।
প্রশ্নোত্তর
১) কেন বিএসইসিকে চিঠি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়?
ডিএসইর সাবেক কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।
২) অভিযোগকারীর দাবি কী?
অগ্রিম নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
৩) কী ধরনের পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে?
নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে চাকরিতে পুনর্বহাল ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









