রসায়ন দ্বিতীয়পত্রের ‘ভুল প্রশ্নে’ পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশ্নভিত্তিক নমুনা উত্তর ও নম্বর বণ্টনের রুব্রিকস অনুসরণ করে খাতা দেখা হবে।
রুব্রিকসে আংশিক উত্তরে নম্বরের ব্যবস্থা

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও নম্বর বণ্টন কীভাবে হবে—তার বিস্তারিত উল্লেখ আছে। আংশিক উত্তর দিলেও পরীক্ষার্থীরা আংশিক নম্বর পাবেন। তবে অপ্রাসঙ্গিক বা ভুল উত্তর দিলে কোনো নম্বর দেওয়া হবে না।
বিশেষ করে বিক্রিয়ার অর্ধসমীকরণ পূর্ণ করতে পারলে, সঠিক সূত্র লিখতে পারলে কিংবা কোনো ধারণার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারলে আংশিক নম্বর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বোর্ডের ভাষায়, দক্ষতা যাচাই হবে ধাপে ধাপে।
সৃজনশীলের ‘ঘ’ অংশে ৪ নম্বর, ব্যাখ্যাও দরকার
বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের (ঘ) অংশ নিয়ে স্পষ্ট করে বলা আছে। উচ্চতর দক্ষতার জন্য এখানে ৪ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গাণিতিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেওয়াও আবশ্যক—এমন শর্ত রুব্রিকসে প্রতিফলিত হয়েছে।
কয়েকটি ভুল ধরিয়ে শিক্ষক-পরীক্ষার্থীরা
রসায়ন দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুল রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, এসব ভুলে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপে পড়েছেন। বিশেষ করে যারা প্রশ্নগুলো সমাধান করতে পারতেন, তাদের ক্ষতি বেশি হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে শিক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, সৃজনশীল প্রশ্নের ১ নম্বর উদ্দীপকের (II) অংশে বিক্রিয়া থেকে চারটি উৎপাদ পাওয়া গেলেও কোনটির ভর ২ দশমিক ৫ গ্রাম—তা উল্লেখ ছিল না। ফলে জারকের ভর নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ।
আরও বলা হয়েছে, ৫ নম্বর উদ্দীপকে ‘পাত্র-১’ উল্লেখ থাকলেও ‘গ’ ও ‘ঘ’ প্রশ্নে সেটিকে ‘A-পাত্র’ বলা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা কোন উপাদান বা পাত্র ধরে সমাধান করবে—সে বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন।
বাকি উদাহরণগুলোও রুব্রিকসে কীভাবে প্রতিফলিত হবে
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ৬ নম্বর উদ্দীপকের ‘গ’ প্রশ্ন। সেখানে ২৫০ মিলিলিটার গ্যাস উৎপন্ন করতে প্রয়োজনীয় মাতৃ যৌগের পরিমাণ বের করতে গ্যাসটির তাপমাত্রা ও চাপ উল্লেখ না থাকার বিষয়টি ধরা হয়েছে।
৬ নম্বর উদ্দীপকের ‘ঘ’ প্রশ্নেও দেওয়া তথ্যে CO₂ গ্যাসের জন্য Z-এর মান ৪ দশমিক ০ এসেছে—এটি বাস্তব গ্যাসের ধর্ম ও তরলীকরণ তত্ত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মত দিয়েছেন শিক্ষকরা।
৮ নম্বর উদ্দীপকের ‘ঘ’ প্রশ্নে ‘ভ্যান ডার ওয়ালস’ সমীকরণকে ‘আদর্শ গ্যাসের সমন্বয় সমীকরণ’-এর পরিবর্তিত রূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। সংজ্ঞাগতভাবে এটি ভুল—এমন মত শিক্ষকদের। যদিও কিছু পাঠ্যবইয়ে অনুরূপ ব্যাখ্যা থাকতে পারে বলে প্রসঙ্গ টেনেছেন তারা।
এদিকে বহুনির্বাচনি অংশেও ভুলের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকরা। যমুনা (ঘ) সেটের ১০ নম্বর প্রশ্নে কোনো সঠিক উত্তর নেই—এমন দাবি আছে তাদের। পাঠ্যবই অনুযায়ী শুধু iii সঠিক হলেও প্রশ্নে সেটি এককভাবে উত্তর হিসেবে দেওয়া হয়নি বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
আগের ঘটনায়ও পূর্ণ নম্বরের সিদ্ধান্ত
এর আগে পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে বড় ধরনের ভুল ধরা পড়েছিল। পরে ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার রসায়ন দ্বিতীয়পত্রের খাতা মূল্যায়নে রুব্রিকস দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড—যাতে আংশিক যোগ্যতা থাকলে সেটাও বিবেচনায় আসে।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তা
বিশেষ করে বিদেশে বসেও যারা পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন বা আবেদন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই নির্দেশনাই মূল দিকনির্দেশ। সঠিক ধারণা দেখাতে পারলেই যে আংশিক নম্বর পাওয়া যেতে পারে—রুব্রিকসে সেটাই নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রশ্নোত্তর
রুব্রিকসে আংশিক নম্বর কীভাবে দেওয়া হবে?
বিক্রিয়ার অর্ধসমীকরণ পূর্ণ করা, সঠিক সূত্র লেখা বা ধারণার সঠিক ব্যাখ্যা দিলে আংশিক নম্বর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কোন ধরনের উত্তরে নম্বর পাওয়া যাবে না?
অপ্রাসঙ্গিক বা ভুল উত্তর দিলে কোনো নম্বর দেওয়া হবে না।
সৃজনশীল প্রশ্নের ‘ঘ’ অংশে কত নম্বর?
উচ্চতর দক্ষতার জন্য এখানে ৪ নম্বর বরাদ্দ আছে এবং গাণিতিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি যৌক্তিক ব্যাখ্যাও জরুরি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









