GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / খেলা / অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই নাহিদ রানা: ক্ষতি কতটা

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই নাহিদ রানা: ক্ষতি কতটা

নাহিদ রানা চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই

পেসার নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়া সফরে যে গতি নিয়ে বাংলাদেশের অস্ত্র হয়ে উঠতে পারতেন, সেই সম্ভাবনাটাই এখন থমকে গেছে। পাঁজরের বাঁ পাশের চোটে ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকবেন তিনি—শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষণায় বিষয়টি স্পষ্ট হলো।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হারানো বড় অস্ত্র

নাহিদ রানা চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই

বাংলাদেশের জন্য এটা কেবল একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নয়। টেস্ট ক্রিকেটে গতি মানেই প্রশ্ন, মানেই চাপ। নাহিদ রানা গতিকে উইকেটে রূপ দিতে পারেন—এমন বিশ্বাস দলের ভেতরেই কাজ করছিল। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সিরিজে তাঁর গতিই হতে পারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু চোটের কারণে সেই মুহূর্তটা আসার আগেই থামল।

কতটা প্রভাব পড়তে পারে বোলিংয়ে

নাহিদ রানা নিজের ধারাবাহিক গতির কারণে আলোচনায় থাকেন। টেস্টে তাঁর গড় বোলিং গতি ঘণ্টায় ১৪১.৫৪ কিলোমিটার—যা বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভেতর গতির মান ধরে রাখতে সহায়তা করে। অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে যেখানে ব্যাটসম্যানদের সময় কমিয়ে দিতে পারলে সাফল্য সহজ হয়, সেখানে তাঁর না থাকাটা পরিকল্পনার বড় অংশই কেটে দেয়।

দ্রুততম লড়াইও মিস বাংলাদেশের

নাহিদ রানাকে ঘিরে একটা উত্তেজনার জায়গা ছিল বিশ্বের দ্রুততম পেসারদের সঙ্গে তুলনার সেই লড়াই। টেস্টে ধারাবাহিকভাবে জোরে বল করার দিক থেকে নাহিদ রানা ও অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক—দুটো নামই আলোচনায় থাকে। এবার অস্ট্রেলিয়ায় সেই সম্ভাব্য মুখোমুখি দেখা যাবে না। ফলে বাংলাদেশের গতির আক্রমণের সঙ্গে স্টার্কদের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের টানটান দ্বৈরথও থাকছে না।

পুরো পেস আক্রমণেই ধাক্কা

নাহিদ রানা একা নন—গত দুই বছরে বাংলাদেশের পুরো পেস আক্রমণও গতির সূচকে এগিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, মার্চ ২০২৪ থেকে বাংলাদেশ পেসারদের অধিকাংশ ডেলিভারিতেই ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতি ছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। কিন্তু গতি নির্ভর এই পরিকল্পনার একটি স্তম্ভই যদি বাইরে থাকে, তাহলে সামগ্রিক ছকেও নড়চড় লেগে যায়।

শরীফুল ইস্যুতেও চিন্তা

এদিকে বাংলাদেশের আরেক পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ নাম শরীফুল ইসলামও চোটে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তাঁকে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। চিকিৎসকের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে দ্বিতীয় টেস্টে বিবেচনা হতে পারে—এতেই বোঝা যায়, গতিবলয়ের কোর গঠনে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে হবে বাংলাদেশকে।

শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট শুরু হলে বাংলাদেশকে নিজেদের শক্তি দিয়েই সমীকরণ বদলাতে হবে—কিন্তু নাহিদ রানা ক্ষতি হিসেবে ঠিক এই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে। গতি-ভিত্তিক চাপ, উইকেট তোলার সুযোগ, আর বড় মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য ধারাবাহিকতা—সবকিছু মিলিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে দলের পরিকল্পনা।

দ্রুত প্রশ্নোত্তর

নাহিদ রানা কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন?
পাঁজরের বাঁ পাশের চোটে ছয় থেকে আট সপ্তাহ খেলতে পারবেন না।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তাঁর অনুপস্থিতি কতটা বড়?
টেস্টে গতি ও ধারাবাহিকতার জায়গায় বাংলাদেশের একটি প্রধান অস্ত্র হারাচ্ছে দল।

আর কারা চোটে আছেন?
শরীফুল ইসলাম হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে থাকায় প্রথম টেস্টে পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons