দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ এখন ঢাকার দিকেই চোখ রাখছে। আগামী নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ফের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাদ নিতে পারে কি না—এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ট্রফির দেখা মেলেনি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি এমনভাবে সাজতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ সুযোগটাই পেয়ে যেতে পারে।
ভারতের মূল দল না আসার সম্ভাবনা

এবার সাফের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের সিনিয়র দলের নিউজিল্যান্ড সফরের কারণে ঢাকায় ‘ব্লু টাইগার্স’দের মূল স্কোয়াড আসার পথ প্রায় বন্ধ। দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের শতাব্দীপূর্তি ঘিরে অকল্যান্ড ও ক্রাইস্টচার্চে তাদের দুটি প্রীতি ম্যাচ নির্ধারিত আছে ১২ ও ১৫ নভেম্বর। ফলে সাফে ভারত তাদের জাতীয় দল না পাঠিয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ বা অলিম্পিক দল পাঠানোর কথা ভাবছে—এমন ইঙ্গিতই ঘুরপাক খাচ্ছে।
নেপালের ফিফা নিষেধাজ্ঞা বড় ফ্যাক্টর
অন্যদিকে হিমালয়ের দেশ নেপাল ফুটবল অঙ্গনে অস্থিরতা কাটছে না। তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা গত জুনে নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে সাফে নেপাল মাঠে নামতে পারবে না—এটাই মূল শঙ্কা। আঞ্চলিক দুই বড় প্রতিপক্ষ সম্ভাব্যভাবে না থাকলে স্বাগতিক বাংলাদেশের পথ আরও খোলাই হতে পারে।
ঢাকায় স্বপ্ন দেখাচ্ছে নতুন কোচের পরিকল্পনা
বাংলাদেশ দলের নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে এসেছে ঘরোয়া প্রত্যাশার আরেকটা স্তর। মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া আমেরিকান কোচ থমাস ডুলির অধীনে দল বদলানোর ইঙ্গিত আগেই মিলেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ও ডুলির পরিকল্পনার বাস্তব আভাস দিয়েছে। মাঠে যে কৌশল আর প্রস্তুতি—সেটা বদলাতে সময় লাগলেও প্রক্রিয়াটা যে চলছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে।
ডুলির ‘প্রবাসী ব্রিগেড’—হামজা-শামিতের উড্ডয়ন
বাংলাদেশের জন্য বড় শক্তি হতে পারে প্রবাসী ব্রিগেড। ইংলিশ প্রিমিয়ম লিগের পরিচিত মুখ হামজা চৌধুরী এবং কানাডিয়ান লিগের শামিত সোম প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে সাফ মঞ্চে নামতে পারেন। পাশাপাশি ইতালি প্রবাসী ফাহামিদুল ইসলামের মতো উঠতি তারকাদের সংযোজনও লাল-সবুজ দলে নতুন গতি যোগ করতে পারে।
তবে সুযোগের নাম কখনও আত্মতুষ্টি নয়। ঘরের মাঠ মানেই সুবিধা, কিন্তু মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান—কারও ক্ষেত্রেই হিসাব সহজ হবে না। তবু যদি ভারতের দ্বিতীয় সারির দল সত্যিই আসে এবং নেপালের অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে ২৩ বছর পর আবার উল্লাসে মাতার সমীকরণটা বাস্তবে রূপ নিতে পারে। কোচ ডুলির পরিকল্পনা আর হামজা-শামিতদের ডানার ওপর ভর করেই বাংলাদেশ নিজের স্বপ্নটা গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
প্রশ্নোত্তর
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কবে?
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় এই টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা।
ভারত কি মূল দল পাঠাচ্ছে?
নিউজিল্যান্ডে প্রীতি ম্যাচ থাকায় ভারতের মূল সিনিয়র দল নাও আসতে পারে; অনূর্ধ্ব-২৩ বা অলিম্পিক দলে সাফ খেলার ভাবনা থাকছে।
নেপাল খেলতে পারবে কি?
ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে নেপালের সাফে অংশ নেওয়ার সুযোগ কম।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









