ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
সোমবার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে ‘ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান: ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিজনেস ফোরাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা

নজরুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা অর্থনীতির প্রাণশক্তি
তার বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়, ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাদের নিরাপত্তা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে—এমন ধারণাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
এদিকে ব্যবসায়ী সমাজকে শুধু মুনাফা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশ গঠনের দায়িত্ব পালনের কথাও বলেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সর্বস্তরের জনগণের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশে সক্রিয় ভূমিকা চান
দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন প্রধান অতিথি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থনৈতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়—আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথিরা জানান, জুলাই অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তারা ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সিবিএফ সভাপতি শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সিবিএফের সহ-সভাপতি জালাল উদ্দীন আকবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি, জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ফয়সাল আহমদ শান্তর মা মোছাম্মত কোহিনূর আক্তার।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: জাগোনিউজ২৪.কম









