শ্রাবণের মেঘের মতোই নীরবভাবে জমে উঠেছে দেশের প্রাইমারি শিক্ষকদের কষ্ট। গ্রামে মানুষ বিপদে পড়লে ওষুধ থেকে সহায়তা পর্যন্ত হাত বাড়ান—কিন্তু নিজের ঘরে টাকার টান সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক সহকারী শিক্ষক।
গ্রামে শিক্ষকই পরম আপনজন

পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের কথা উঠে আসে আলোচনায়। ছুটি শেষে গ্রামের মাঠেই তাঁকে পাওয়া যায়। শিশুদের খেলা দেখা, প্রয়োজনে দ্রুত সাহায্য করা—কখনো অসুস্থতায় বিনা মূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা, কখনো কারও পড়াশোনার খোঁজ। মানুষের কাছে তিনি শুধু শিক্ষক নন; বিপদে পাশে দাঁড়ান বলেই তাঁর পরিচয় আপনজনের মতো।
কিন্তু সংসার চলে টানাপোড়েনে
স্বপ্ন থাকে, সততার চেষ্টাও থাকে। তবু বাজারদর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুদি ও মাছের দোকানে বাকির খাতা বড় হতে থাকে। একই সঙ্গে সমাজে শিক্ষকদের প্রতি সম্মানও কমে যাওয়ার কথা বলছেন মাঠপর্যায়ের শিক্ষকরা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন আটকে আছে বলে উল্লেখ করা হয়—ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার চাপ স্পষ্ট।
ঋণের চক্রে শিক্ষকরা
বেতনের সংকটের কারণে পরিবার চালাতে ধার করতে হয়—আর সেই ধার শোধ করতে ফের নতুন ধার লাগে। ফলে গ্রামে গ্রামে গড়ে ওঠে সুবিধাবঞ্চিতদের টার্গেট করা উচ্চ সুদের কারবার। মাসের শুরুতে বেতন আসার আগেই বড় অংশ চলে যায় ঋণদাতাদের কাছে—শিক্ষকের হাতে থাকে খুব কমই।
নিয়োগ-প্রশাসনের অরাজকতা ও ক্ষোভ
শুধু বেতন নয়, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক অরাজকতার অভিযোগও উঠে আসে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা বলা হলেও, প্রতিটি নিয়োগে পরীক্ষায় ‘কেন্দ্র কন্ট্রাক্ট’ বা প্রশ্ন সমাধানের মতো অনৈতিক কারসাজির অভিযোগ পাওয়া যায় বলে বলা হয়। অভিযোগ আছে, এমনভাবে আসা কিছু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসে না থাকায় মাঠপর্যায়ে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
শিক্ষকদের নীরব প্রতিবাদ
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে কেন্দ্র করে পোশাক ও সাজগোজ নিয়ে ফেসবুকে কটাক্ষ ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক সমাজের মানসিক কষ্ট সামনে আসে। এর প্রতিবাদে শিক্ষিকারা ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গান ব্যবহার করে ভিডিও প্রকাশ করেন—বঞ্চনার জমে থাকা ক্ষোভটা যেন আকাশে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন, এমনটাই প্রতিফলিত হয়।
প্রবাসী পাঠকের জন্য বার্তাটা কোথায়?
বেতনের চাপ আর চাকরিতে অনিশ্চয়তা যখন শিক্ষকদের জীবনে থাবা দেয়, তখন প্রভাব পড়ে শিশুদের পাঠ-পরিবেশে। প্রবাসে থাকা অভিভাবকদের কাছেও এটা সরাসরি প্রাসঙ্গিক—কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতেখড়ি হয় এখান থেকেই।
প্রশ্ন–উত্তর
প্রাইমারি শিক্ষকদের মূল সমস্যাটা কী?
বাজারদরের তুলনায় বেতনের টানাপোড়েন এবং ধার-ঋণের চাপ—এটাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।
শুধু বেতন নয়, আর কী প্রসঙ্গ আছে?
শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক অরাজকতার অভিযোগও ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।
শিক্ষকদের প্রতিবাদের ধরন কেমন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে বঞ্চনা ও সম্মানের প্রশ্নে নীরব প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









