GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সাহিত্য / ইন্দুবালা ভাতের হোটেল পাঠচক্রে জীবনসংগ্রামের গল্প

ইন্দুবালা ভাতের হোটেল পাঠচক্রে জীবনসংগ্রামের গল্প

‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ উপন্যাস ঘিরে পাঠচক্রে আলোচনা

ভাতের ঘ্রাণ আর গলির মানুষের কষ্ট—এই দুইয়ের মিশেলে সাজানো ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ যেন নিজের ভেতরেই বলে দেয়, জীবন থেমে থাকে না। সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রে উপন্যাসটি ঘিরে আলোচনা হয়েছে ঠিক সেই স্বাদ নিয়ে—হেঁশেল থেকে উঠে আসা স্মৃতি, আর কলকাতার টানাপোড়েন।

হোটেলই হয়ে উঠেছে ইন্দুবালার পরিচয়

‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ উপন্যাস ঘিরে পাঠচক্রে আলোচনা

গল্প বলছে খুলনার কলাপোতা গ্রামের কিশোরী ইন্দুবালাকে কেন্দ্র করে। কিশোরী বয়স পেরিয়ে বিয়ের পর কলকাতার সরু গলিতে শুরু হয় তার নতুন জীবন। স্বামীর মৃত্যুর পর দিশাহারা ইন্দুবালার ভরসা হয়ে দাঁড়ায় পুরোনো বাড়ির সেই ভাতের হোটেল। এরপর থেকেই হোটেলটি হয়ে ওঠে তার আত্মপরিচয়—সংগ্রাম ও বর্তমানের প্রতীক।

আট অধ্যায়ের নাম, আট পদের খাবার

উপন্যাসে রয়েছে মোট আটটি অধ্যায়। প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে আটটি পদের খাবারের নামে—যেমন ‘কুমড়ো ফুলের বড়া’, ‘বিউলির ডাল’। এতে করে পাঠক শুধু গল্পই পড়ে না; বাঙালি হেঁশেলের গন্ধও খুঁজে পায় প্রতিটি অধ্যায়ের ভেতর। আর ইন্দুবালার অতীতের সংগ্রাম ক্রমেই মিশে যায় সেই খাবারের নামের মধ্যে।

পাঠচক্রে উঠে এলো নতুন করে জীবন শুরুর বার্তা

পাঠ পর্যালোচনায় আলোচক বন্ধু আজিজ বিন আহম্মদ বলেন, ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ আমাদের শেখায় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আবার নতুন করে জীবন শুরু করা যায়। অন্যদিকে লেখক প্রসঙ্গে বন্ধু প্রণব চৌধুরী বলেন, বর্তমানের গল্পের ফাঁকে ফাঁকে ইন্দুবালার অতীত জীবনের গল্প আর তাদের যোগসূত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে খুব দারুণভাবে।

প্রবাসীদের কাছেও খাবারের গল্প মানে আপন ঠিকানা

সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রে উপন্যাসটির জনপ্রিয়তাও আলাপ হয়েছে। ভোজনরসিক বাঙালির কাছে হোটেলের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস বরাবরই আগ্রহ জাগায়। প্রবাসে থাকা মানুষদের জন্যও ‘খাবার’ মানে শুধু রুচি নয়—এটা স্মৃতি, পরিবার, ভাষা আর বেঁচে থাকার কৌশল। তাই ইন্দুবালার ভাতের হোটেল আসলে খুব কাছের একটা প্রতীক হয়ে ওঠে।

যারা ছিলেন

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, শেখ ফয়সাল আহমেদ, সূবর্ণা দেব, সমরজিৎ হালদার, শ্রেয়ান ঘোষ, কৃত্য ছত্রী, সাজন বিশ্বাস, সৌম্য মণ্ডল, ধীমহি ধৃতি, সুমন দাস, জামিউল হাসান, অমিত দেবনাথ, প্রাণেশ দাস, আহসান উল্লাহ খান, শুভ তালুকদার, নয়ন হাজরাসহ অনেকে।

প্রশ্ন-উত্তর

কী নিয়ে আলোচনা হলো পাঠচক্রে?
উপন্যাসে ইন্দুবালার অতীত-বর্তমান, খাবারের অধ্যায় বিন্যাস এবং জীবনসংগ্রামের বার্তা নিয়ে।

কেন ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ পড়তে আগ্রহী হন পাঠকরা?
হোটেলের পটভূমিতে বাঙালি হেঁশেলের গন্ধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন নারীর টিকে থাকার গল্প।

প্রবাসীদের কাছে এই গল্পের টান কোথায়?
খাবার-স্মৃতি এবং নতুন করে বেঁচে ওঠার মানসিকতার জায়গায়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: bondhushava.com

Social Icons