প্রগতি সরণিতে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ইউটিলিটি হস্তান্তরের কাজ আর ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের খোঁড়াখুঁড়ি মিলিয়ে যানজট এখন প্রায় অচল পর্যায়ে। ৬ লেনের ব্যস্ত সড়কে কার্যত চলাচল নেমে এসেছে দুই লেনে—বাসসহ যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াত ভেঙে পড়ছে প্রতিদিন।
৬ লেনের সড়কে পথ সংকুচিত, যানবাহন থমকে

রমপুরা থেকে কুড়িল পর্যন্ত রাস্তায় একই সময়ে কাজ চলায় সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। সরেজমিনে দেখা যায়, হোসেন মার্কেটের সামনে থেকে দুই পাশের তিন লেন করে মোট ছয় লেনের সড়কে এখন প্রতিটি পাশে মাত্র একটি করে লেন দিয়ে যানবাহন চালানো হচ্ছে। ফলে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এমআরটি লাইন-১ ইউটিলিটি হস্তান্তরের কাজ
বিমানবন্দর থেকে কুড়িল হয়ে প্রগতি সরণি পর্যন্ত অংশে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের অধীনে ইউটিলিটি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে স্বাভাবিক গতিবিধি বারবার ব্যাহত হচ্ছে। মোট ১২টি স্থানে কাজ চলার কথা জানা গেছে—এসব এলাকায় যানজট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
ঢাকা ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি, যমুনা সামনে আবারও কাজ
এ পরিস্থিতির মধ্যে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দ্বিতীয় দফায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছে ঢাকা ওয়াসা—পানির পাইপলাইন স্থাপনের জন্য। ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভাষ্য, এমআরটি-১ এর ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজের পর আবার একই এলাকায় নতুন করে সড়ক খোঁড়া হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে, বিশেষ করে গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য।
দুর্ভোগে অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের পরিকল্পনা এলোমেলো
যানজটের প্রভাব পড়ছে সবচেয়ে বেশি অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও রোগী বহনকারী যানবাহনের ওপর। সাধারণ সময়ে রামপুরা থেকে কুড়িলের মতো এ পথ যেখানে কম সময়ে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়, সেখানে এখন বাসে সময় লেগে যাচ্ছে অনেক বেশি। ফলে অফিসে সময়মতো পৌঁছানো, সময়সূচি মেনে চলা এবং পুরো দিনের কাজ পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় যানবাহনের ভেতর বসে থাকতে হচ্ছে। এতে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিও বাড়ছে। তাদের মতে, উন্নয়ন চলবে—তবে মানুষের কষ্ট কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ চালানো জরুরি।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রগতি সরণির এই যানজট বাস্তবে ঢাকার দৈনন্দিন অর্থনীতি ও সেবার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রবাসী পরিবারগুলোর অনেকেই দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের যাতায়াত পরিকল্পনার কথা নিয়মিত জানান—এই ধরনের অচলাবস্থা সময় নষ্ট করে, চিকিৎসা ও কাজের ঝুঁকিও বাড়ায়।
প্রশ্ন ১: এখন প্রগতি সরণিতে কেন যানজট এত বেড়েছে?
উত্তর: একই সময়ে এমআরটি লাইন-১ এর ইউটিলিটি হস্তান্তর কাজ এবং ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশ্ন ২: ৬ লেনের সড়ক কীভাবে চলছে?
উত্তর: হোসেন মার্কেটের সামনে থেকে শুরু করে সড়কে প্রতিটি পাশে মাত্র একটি করে লেন দিয়ে যানবাহন চলায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন ৩: কারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে?
উত্তর: অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও রোগী বহনকারী যানবাহনের যাত্রীরা বেশি সময় আটকে থাকছেন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









