ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭–এর লিখিত পরীক্ষাই সবচেয়ে বড় ধাপ; মোট ৩০০ নম্বর। তাই শুধু পড়লেই চলবে না—সঠিক কৌশলে, সময় সচেতনভাবে প্রস্তুতি নিলেই এগোতে পারবেন।
লিখিত পরীক্ষা কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ক্যাডেট কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া সাধারণত তিন ধাপে এগোয়—লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লিখিতেই প্রার্থীদের যোগ্যতা অনেকটা পরিস্কার হয়। বিশেষ করে প্রশ্নের ধরনেও পরিবর্তন আসছে—সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, বহুনির্বাচনি এবং বুদ্ধিমত্তা যাচাইমূলক প্রশ্নের উপস্থিতি বাড়ছে।
প্রস্তুতির আগে সিলেবাস দেখুন
যেকোনো ভর্তি পরীক্ষায় বসার আগে অবশ্যই সিলেবাস ও মানবণ্টন হাতে নিন। এতে বোঝা যায় কোন বিষয়ের দিকে বেশি সময় দিতে হবে। ক্যাডেট কলেজের লিখিত পরীক্ষা ৩০০ নম্বরের হওয়ায় প্রত্যেক বিষয়ের প্রস্তুতি সমানভাবে না করে কৌশলে ভাগ করাই মূল কাজ।
গণিত: কোথায় বেশি নম্বর আসতে পারে
লিখিত পরীক্ষায় গণিত অংশ ১০০ নম্বর। ফলে গণিতে ভালো করলে সম্ভাবনা বাড়ে, দুর্বল হলে তা দ্রুত টের পাওয়া যায়। গণিতে এগোতে হলে এনসিটিবি নির্ধারিত ষষ্ঠ শ্রেণির বইকে ভিত্তি হিসেবে ধরুন।
প্রতিটি অধ্যায় থেকে উদাহরণ, অনুশীলনী ও কাজের অঙ্কগুলো কমপক্ষে তিন থেকে চারবার নিজে নিজে সমাধান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মুখস্থ করার চেষ্টা না করে ধাপে ধাপে বুঝে সমাধান করুন।
বিশেষ নজর দিন পাটিগণিতের লসাগু–গসাগু, ঐকিক নিয়ম, ভগ্নাংশ, দশমিক, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত ও পরিমাপের অঙ্কে। বীজগণিতে বেসিক সূত্র, সরলীকরণ এবং জ্যামিতিতে সংজ্ঞা, কোণ, ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ—এগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।
আরেকটি বড় বিষয় হলো দ্রুত হিসাব। সময় কম থাকে, তাই রাফ পেপারে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে হিসাব করার অভ্যাস জরুরি। শুধু শর্টকাটে ভরসা না করে, পরীক্ষায় অঙ্কের প্রতিটি ধাপ পরিষ্কারভাবে দেখান—কারণ সরাসরি উত্তর বসালে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার সুযোগ কমে যায়।
ইংরেজি: ব্যাকরণ আর শব্দভান্ডারেই দখল
ইংরেজিতে ভালো করার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো ব্যাকরণ এবং শব্দভান্ডার। এখানে মূল ফোকাস রাখতে হবে Parts of Speech—বিশেষ করে Noun, Pronoun, Adjective, Verb, Adverb; পাশাপাশি Tense, Articles, Prepositions, Sentence (Structure & Types), Voice Change, এবং সঠিক ক্রিয়াপদের রূপ।
ব্যাকরণ যত বেশি নির্ভুল হবে, পরীক্ষায় ভুলের কারণে নম্বর হারানোর ঝুঁকি তত কমবে। প্রতিদিন অল্প সময় ধরে নিয়মভিত্তিক অনুশীলন করলে এগিয়ে থাকা সহজ হয়।
ছোট্ট টু-ডু প্ল্যান
- সিলেবাস মিলিয়ে প্রতিদিনের পড়ার ভাগ নির্ধারণ করুন।
- গণিতে বইয়ের অঙ্ক বারবার সমাধান ও রাফে দ্রুত হিসাবের অনুশীলন করুন।
- ইংরেজিতে ব্যাকরণভিত্তিক অনুশীলন নিয়মিত করুন, শব্দভান্ডার বাড়াতে থাকুন।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদেরও জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—যেহেতু সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হয়, তাই পরিকল্পনা করে পড়লে ব্যস্ত রুটিনেও লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। লিখিত অংশে কৌশল ধরে এগোতে পারলে স্বপ্নের পথে অর্ধেকটা আগেই পেরিয়ে যায়।
প্রশ্নোত্তর
লিখিত পরীক্ষায় কত নম্বর থাকে?
লিখিত পরীক্ষা মোট ৩০০ নম্বরের।
গণিতে কোন কোন বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
লসাগু–গসাগু, ঐকিক নিয়ম, ভগ্নাংশ, দশমিক, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত ও পরিমাপের অঙ্কে জোর দিন।
ইংরেজিতে কোন অংশে আগে প্রস্তুতি নেব?
ব্যাকরণ—Parts of Speech, Tense, Articles, Prepositions, Sentence, Voice Change এবং সঠিক ক্রিয়াপদের রূপ আগে নিশ্চিত করুন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









