এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় পরীক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। যেসব পরীক্ষক উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেননি, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এত শিক্ষার্থীর ফল কীভাবে বেড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যারা খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পান ৩ হাজার ৭৯ জন।
শিক্ষার মান বাড়াতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন ড. মিলন। তিনি ভালো ফলের জন্য ক্লাসরুমে গিয়ে কাজ করা এবং নিয়মিত সুপারভিশনের আহ্বান জানান। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্লাসরুমগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় আনার অনুরোধও করেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দেখতে গিয়ে তিনি পরীক্ষার পরিবেশে বিভিন্ন সমস্যা লক্ষ্য করেছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যক্রম তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও প্রতিবাদ হলেও দায়িত্ব থেকে সরে না যাওয়ার কথা বলেন ড. মিলন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ধরনের বাধা এলেও নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।
সাত মাসে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন দৃশ্যমান না হওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেন শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, সাত মাসে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ চালুর বিষয়টিকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সের ফি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশেষ করে আইন কোর্সের ফি বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এত টাকার প্রয়োজন কি না।
মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের নিজস্ব ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন ড. মিলন।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ চালু করেছে। অনুষ্ঠানে ৫৭ শিক্ষার্থীকে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
