সকালের নাস্তার টেবিলের রুটি, পরোটা থেকে শুরু করে বিকালের সিঙ্গারা, পাউরুটি, বিস্কুট কিংবা কেক—সবকিছুতেই সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আটা-ময়দার তৈরি খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বেশি।
তবে সম্প্রতি রাজধানীর বাজারে আটা ও ময়দার দাম অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তারা।
বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি আটার দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং ময়দার দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্রেতাদের মতে, আয় না বাড়লেও প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের এমন দাম বৃদ্ধি তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ নাস্তা প্রস্তুত করাও এখন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
এদিকে আটা-ময়দার এই দাম বাড়ার পাশাপাশি রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে দেখা দিয়েছে প্যাকেটজাত ময়দার তীব্র সংকট।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, বড় বড় প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাতারাতি প্যাকেটজাত পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়েছে।
এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, এক মাস আগে দুই কেজি ময়দার প্যাকেট ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে মোড়কের গায়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) বাড়িয়ে ১৮০ টাকা করা হয়েছে।
পাইকারি ডিলার ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে গম আমদানি না হওয়া এবং দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটার অজুহাত দেখাচ্ছে।
বাজারের এই বিশৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেট রোধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

