নবম ও দশম গ্রেডের চাকরিতে একই ধরনের প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতা পেরিয়েও প্রারম্ভিক বেতনে বড় ফারাক থাকায় নবম-দশম গ্রেড বেতন বৈষম্য নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। যারা সরকারি চাকরির পরীক্ষায় নিয়মিত প্রস্তুতি নেন, তাদের কাছে এই বৈষম্য আসলে ভবিষ্যৎ আয়ের হিসাবেও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
একই দৌড়ে দুই গ্রেড, কিন্তু বেতন ভিন্ন

জাতীয় বেতন স্কেলে নবম গ্রেডকে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা এবং দশম গ্রেডকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদ হিসেবে ধরলেও বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। সরকারি ব্যাংকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের যে বহুস্তরীয় বাছাই—প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—অতিক্রম করতে হয়, নবম আর দশম গ্রেডে সাধারণভাবে তা খুব একটা আলাদা নয়।
ফলে একই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সামান্য নম্বরের ব্যবধানে একজন নবম গ্রেডে আরেকজন দশম গ্রেডে চলে যাচ্ছেন—এমন চিত্রও উঠে আসে। যোগ্যতার রেখা এতটাই সূক্ষ্ম হলে, সেটাকে দুটি ভিন্ন স্তর হিসেবে ধরা কতটা যুক্তিসংগত—এই প্রশ্নই কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রারম্ভিক মূল বেতনের ব্যবধানই আলোচনার জায়গা
এ আলোচনার বড় কারণ বেতনের হিসাব। তথ্যে দেখা যায়, নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাইশ হাজার টাকা। অন্যদিকে দশম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ষোলো হাজার টাকা। একই ধরনের প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতার পরও প্রারম্ভিক আয়ের এই ব্যবধান ন্যায্যতার প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে তুলনামূলক দৃষ্টিতে বলা হচ্ছে, দশম ও একাদশ গ্রেডের মধ্যে বেতন ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম হলেও যোগ্যতাগত ব্যবধান আনুপাতিকভাবে বেশি। অর্থাৎ সমস্যাটা শুধু গ্রেডভেদী কাঠামোর স্বাভাবিক স্তরভাগ নয়—বরং সেখানে একটি নির্দিষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে।
বাজেট সীমাবদ্ধতা বনাম যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস
গ্রেডব্যবস্থার লক্ষ্যই স্তরভেদ তৈরি করা—এ যুক্তি আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে প্রশ্নটা দাঁড়াচ্ছে ব্যবধানের মাত্রা নিয়ে। বাজেট সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গও আসে, কারণ বেতন কাঠামো বদলাতে অর্থের বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকে।
তবু প্রস্তাব করা হচ্ছে, সমন্বয়টি নতুন করে বড় কোনো ব্যয় যোগ করার মতো না হয়ে বিদ্যমান কাঠামোর যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস হতে পারে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথও ভাবা হচ্ছে।
যে প্রস্তাবে ব্যবধান কমানোর কথা
এই প্রেক্ষাপটে একটি প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে—নবম গ্রেডের বেতন বাইশ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রেখে দশম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন আঠারো থেকে বিশ হাজার টাকায় উন্নীত করা। এতে দুই গ্রেডের মধ্যে ব্যবধান কমে আসার কথা বলা হচ্ছে; ন্যায্যতা ও প্রার্থীদের প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্য আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়, কারণ সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পড়াশোনার বিনিয়োগ এবং কর্মজীবনের নিরাপত্তা—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িত।
প্রশ্নোত্তর
নবম ও দশম গ্রেডে বৈষম্য বলা হচ্ছে কেন?
একই ধরনের প্রতিযোগিতা ও যাচাইয়ের পরও প্রারম্ভিক মূল বেতনে বড় ব্যবধান থাকায়।
কোন প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে?
নবম গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে দশম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন আঠারো থেকে বিশ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব।
এটা চাকরিপ্রার্থীদের কীভাবে প্রভাবিত করবে?
গ্রেডভেদে প্রাথমিক আয়ের পার্থক্য কমলে ন্যায্যতার অনুভূতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সহজ হতে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









