২০১৫ সালের ছিটমহল বিনিময়ের পর কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা এখন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। সড়ক পাকা হয়েছে, বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পথও সহজ হয়েছে—এটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
ছিটমহল ছিল বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড

ছিটমহল বলতে বোঝানো হতো এক দেশের ভেতরে থাকা অন্য দেশের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড। চারপাশ ঘিরে থাকত প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশ–ভারতের মধ্যে এমন ছিটমহল ছিল মোট ১৬২টি। এর মধ্যে বাংলাদেশের ভেতরে ছিল ভারতের ১১১টি, আর ভারতের ভেতরে ছিল বাংলাদেশের ৫১টি।
বিনিময়ের আগে নাগরিক সেবা ছিল দূর
বিনিময়ের আগে ছিটমহলবাসীর অভিজ্ঞতা ছিল—যে দেশে তাঁরা নাগরিক, সেই অধিকার আর রাষ্ট্রীয় সেবা অনেক সময়ই মিলত না। কার্যত শিক্ষা, চিকিৎসা এবং নিরাপদ যাতায়াতের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে বাধা লেগেছিল।
জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকার ঘটনাও ছিল। বাজারে গিয়ে পণ্য বিক্রি বা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পরিচয় ও ঠিকানা নিয়ে নানা বাধার মুখে পড়তে হতো।
পরিচয় সঙ্কটই ছিল বড় সমস্যা
পরিচয়পত্র ও বৈধ ঠিকানার অভাবে অনেককে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পেতে অন্য পরিচয়ে যাওয়ার পথ খুঁজতে হয়েছে। কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বাবা–মা পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতেন, আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে ব্যবহার করতেন অন্য ঠিকানা।
এই বাস্তবতায় ছিটমহলবাসীকে আলাদা করে চিহ্নিত করা হতো—‘ছিটের মানুষ’ বলে। বাজারে তাঁদের পণ্যের দামও কম ধরা হতো; টিকে থাকার জন্যই তখন এমন দৈনন্দিন লড়াই ছিল স্বাভাবিক রূপ।
বিনিময়ের পর দৃশ্যমান বদল
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ–ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়। এরপর কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় পরিবর্তন স্পষ্ট হতে থাকে। কালিরহাট বাজারের সড়ক পাকা হয়েছে এবং দোকানপাটের চিত্রও বদলেছে।
দাসিয়ারছড়ায় বেশির ভাগ সড়ক পাকা হয়েছে, বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমনটাই দেখা যাচ্ছে। বাসিন্দাদের কথায়, আগে মন খুলে হাসতে পারা যেত না; এখন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
ছিটমহলবাসীর এই পরিবর্তন আসলে নাগরিক পরিচয়, সেবা ও অধিকার পাওয়ার লড়াইয়ের একটি বড় উদাহরণ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দূরে থাকলেও ঘরে থাকা মানুষগুলোর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান বদলানোর খবর তাদের মনেও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
প্রশ্নোত্তর
ছিটমহল বিনিময় কবে হয়েছিল?
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ–ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়েছিল।
বিনিময়ের পর কী কী পরিবর্তন দেখা যায়?
সড়ক পাকা, বিদ্যুৎ পৌঁছানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা—এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।
বিনিময়ের আগে প্রধান বাধা কী ছিল?
পরিচয়পত্র ও বৈধ ঠিকানার জটিলতায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ যাতায়াতসহ নাগরিক সেবায় বাধা ছিল।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









