GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / ঢাবিতে নীল দল নিষিদ্ধ দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলল

ঢাবিতে নীল দল নিষিদ্ধ দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক সংগঠন সম্পর্কিত প্রতিবাদলিপি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নীল দল’ তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।

নিষিদ্ধ দাবি ও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক সংগঠন সম্পর্কিত প্রতিবাদলিপি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘নীল দল’ বলছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে দাবি উঠেছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনটির বক্তব্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সিন্ডিকেটের চার সদস্যের কমিটি নিয়ে আপত্তি

‘নীল দল’ আরও জানায়, নিষিদ্ধের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট একটি চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। তাদের অভিযোগ—উপাচার্য, দুই সহ–উপাচার্য এবং ‘সাদা দল’ সংক্রান্ত কমিটিতে সংশ্লিষ্ট একজনকে নিয়ে যে কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে, সেটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

মত ও বাক্‌স্বাধীনতার ওপর প্রভাবের আশঙ্কা

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্য দল, মত ও গোষ্ঠীর বাক্‌স্বাধীনতা এবং পেশাগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ‘সাদা দল’–এর দাবির প্রেক্ষাপটে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তিমুখী পদক্ষেপের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

শিক্ষক সংগঠনের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষার আহ্বান

‘নীল দল’ বলছে, ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষক নিজ নিজ রাজনৈতিক দর্শন, বিশ্বাস ও আদর্শ অনুযায়ী শিক্ষক সংগঠন করার অধিকার রাখেন। তাদের দাবি, নীল, সাদা ও গোলাপি দলের শিক্ষকদের সহাবস্থানের ইতিহাস দীর্ঘদিনের।

প্রসঙ্গত, তাদের অভিযোগ—দুই বছর ধরে মতভিন্নতার কারণে বহিষ্কার, একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাস্তি, এমনকি তদন্ত কমিটির নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে শিক্ষকদের শাস্তির ঘটনা ঘটছে। সংগঠনটি এটিকে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

এদিকে ‘নীল দল’ বলছে, আইন, বিধি ও ন্যায়বিচারের নীতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন সংরক্ষণ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তারা জানায়, মব-সংস্কৃতি ও ভয়ভীতির মাধ্যমে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া চলতে থাকলে শিক্ষকসমাজ তা মেনে নেবে না।

প্রবাসী শিক্ষকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংগঠনগুলোর ওপর চাপ বাড়লে ভবিষ্যৎ গবেষণা, পড়াশোনা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা—সব কিছুর ওপরই সরাসরি প্রভাব পড়ে। প্রবাসী শিক্ষার্থীদের পরিবারও এই অস্থিরতার ফল ভোগ করে, কারণ একাডেমিক পরিবেশই তাদের স্বপ্নের ঠিকানা।

শেষ কথা

‘নীল দল’ বলছে, এর আগে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ‘সাদা দল’ উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এখন বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ক্ষমতার ভারসাম্য ও শিক্ষক সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশ্ন–উত্তর

‘নীল দল’ কোন দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছে?
তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি ও সিন্ডিকেটের চার সদস্যের কমিটি গঠনের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সংগঠনটি নিজেদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছে?
প্রতিবাদলিপিতে তারা একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত বলে দাবি করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংগঠনের অধিকার প্রসঙ্গে ‘নীল দল’ কী বলেছে?
১৯৭৩ সালের আদেশের আলোকে শিক্ষকদের নিজ নিজ রাজনৈতিক আদর্শ অনুযায়ী সংগঠন করার অধিকার থাকার কথা বলেছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons