GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / শিক্ষার্থীদের ‘ট্রেন স্টেশন’ স্কুল, ফুলকুঁড়ি বিদ্যা নিকেতন

শিক্ষার্থীদের ‘ট্রেন স্টেশন’ স্কুল, ফুলকুঁড়ি বিদ্যা নিকেতন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ট্রেনের আদলে রঙ করা শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষার্থীরা

ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকার মতো দৃশ্য—কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি কোনো রেলওয়ে স্থাপনা নয়; দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ‘ফুলকুঁড়ি বিদ্যা নিকেতন’ বিদ্যালয়ের নকশা। শ্রেণিকক্ষ থেকে অভিভাবকদের বসার কক্ষ—সবই রঙ করা হয়েছে ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগির আদলে। ফলে পড়াশোনার পরিবেশটা হয়ে উঠেছে খেলাধুলা আর কৌতূহলের মিশেল।

বিদ্যালয়ের ভেতরেই ‘ট্রেন স্টেশন’ মুড

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ট্রেনের আদলে রঙ করা শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষার্থীরা

প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার পর চোখে প্রথম ধরা পড়ে—যেন পুরো একটি ট্রেন স্টেশন দাঁড়িয়ে আছে। একটু কাছে গেলেই পরিষ্কার হয়, আসল ট্রেন নয়; সারি সারি শ্রেণিকক্ষই এমনভাবে আঁকা যে প্রথম দেখায় যে কারও মনে হতে পারে, যাত্রার অপেক্ষায় থাকা বগির সারি সামনে।

শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা, জানালায় দেখা দৃশ্য

শ্রেণিকক্ষে ঢুকতেই দেখা যায়, খুদে শিক্ষার্থীরা পড়ায় মনোযোগী। বিশেষ এই পরিবেশে তাদের চোখেমুখে যে প্রশান্তি আর উচ্ছ্বাস—তাই বলে দেয় উদ্যোগটা কতটা কাজে লাগছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, ট্রেনের মতো রঙ করা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে তারা বেশ ভালো লাগে।

আরও মজার বিষয় হলো, বিদ্যালয়ের নাম শুনলেই অনেক শিক্ষার্থী মুখে মুখে বলে—ট্রেনের ছবি আঁকা স্কুলটিতে তোমরা পড়?

শিশুদের অনুভূতি—ক্লাসরুমেই যেন ভ্রমণ

এই ট্রেন-থিমের আঁকায় পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে শিক্ষার্থীদের কথায় স্পষ্ট। তাদের ভাষ্য, ক্লাসরুমে বসেই মনে হয় তারা যেন ট্রেনে চেপে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছে। জানালার পাশে বসে পড়াশোনা করার সময় পাশের দৃশ্য দেখার অনুভূতিটাও তাদের কাছে আলাদা ভালো লাগে।

শুধু কক্ষ নয়, পরিকল্পনাটাই অন্যরকম

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জানান, উপজেলা পরিষদ-পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। শিশুদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষ নানা উৎসাহমূলক ও সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে আসার কথা বলছেন। ট্রেনের বগির আদলে শ্রেণিকক্ষ রঙ করাও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

এদিকে শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়, বিদ্যালয়ে আসা অভিভাবকদের বসার কক্ষও রঙ করা হয়েছে ট্রেনের ‘ইঞ্জিনের’ আদলে। পুরো ভাবনা ও বাস্তবায়নের মূল কারিগর হিসেবে বলা হয়েছে বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাদের দূরদর্শী চিন্তায় বিদ্যালয়টি আজ যেন ছোট্ট এক টুকরো ‘ট্রেন স্টেশন’-এ রূপ নিয়েছে। তবে পরবর্তীতেও কাজ শেষ না হওয়ায় আরও কিছু আঁকার গল্প সামনে আসবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।

প্রবাসী অভিভাবকদের জন্য বার্তা

প্রবাসে থাকা বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের লেখাপড়ার মানসিক আগ্রহটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের সৃজনশীল পরিবেশ শিশুদের পড়ায় টান বাড়ায়, ভয় কমায়। ফলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার আনন্দটা শুধু বইয়ের ভেতরেই নয়—স্কুলের দেয়ালেও লেখা থাকে।


প্রশ্ন-উত্তর

১) ‘ফুলকুঁড়ি বিদ্যা নিকেতনে’ কী করা হয়েছে?
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও অভিভাবকদের বসার কক্ষ ট্রেনের আদলে রঙ করা হয়েছে।

২) শিক্ষার্থীরা কী বলছে?
তাদের মতে, ট্রেনের মতো করে রঙ করা পরিবেশে পড়াশোনা করতে ভালো লাগে।

৩) উদ্যোগটা কারা নিয়েছে?
বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons