হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন একটি পথ নিয়ে ইরান ও ওমান ঐকমত্যে পৌঁছেছে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত রুট নির্ধারণের চেষ্টা—যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দৈনন্দিন জীবনেও পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানি ও পণ্যের দামের মাধ্যমে।
ইরান-ওমানের সমঝোতা, যৌথ বিবৃতির পথে

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, হরমুজে দুই দেশ যে পথ অনুসরণ করবে—এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তৃতীয় কোনো পক্ষ বাধা না দিলে শিগগিরই দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করতে পারে। বর্তমানে ওই বিবৃতির খসড়া চূড়ান্ত পর্যালোচনায় রয়েছে।
নিরাপত্তা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী ইরান
সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য সত্যিকার অর্থে নিরাপদ হবে কি না—তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের মুখপাত্র। তিনি বলেন, হরমুজকে অনিরাপদ করে রাখার মতো কারণগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ ও অন্য ধরনের হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার দিকে যেতে পারে।
উত্তর-দক্ষিণ রুট নিয়ে দ্বিমুখী অবস্থান
হরমুজ প্রণালিতে ইরান উত্তর পাশে এবং ওমান দক্ষিণে। ইরানের ভাষ্যমতে, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রণালির উত্তর দিক তাদের নিয়ন্ত্রিত পথে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ—প্রণালির দক্ষিণ দিক দিয়ে ওমান উপকূল ঘেঁষে জাহাজ চলাচল। এই টানাপোড়েন নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কথাও আলোচনায় এসেছে।
মাস্কাটের প্রস্তাব, ইরানের পাল্টা প্রস্তাব
গত সপ্তাহে মাস্কাট থেকে ইরানকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতেও মালাক্কা প্রণালির মতো নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে সেবা ফি নেওয়ার ধারণা ছিল। পাশাপাশি হরমুজের পথগুলোকে ইরান ও ওমানের মধ্যে ভাগ করার কথাও বলা হয়। ইরান ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেয় এবং এর বিপরীতে তারা পাল্টা প্রস্তাব দেয়। এরপর থেকেই আলোচনার অগ্রগতি নজরে আসে।
প্রবাসীদের জন্য কেন বিষয়টি জরুরি
হরমুজ দিয়ে বিশ্বজ্বালানির বড় একটি অংশ পরিবহন হতো। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পথটি কার্যত বন্ধ থাকায় বাজারে চাপ পড়েছিল। এখন নতুন রুট নিয়ে ইরান ও ওমান সমঝোতায় গেলে শিপিং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়—যা তেলভিত্তিক দামের মাধ্যমে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ব্যবহারে ও দৈনন্দিন ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও হুমকির কারণে নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা বলা হয়েছে, সেটি বাস্তবে ঝুঁকি কমাবে কি না—সেটাই বড় প্রশ্ন।
সংক্ষেপে তিনটি প্রশ্ন
ইরান ও ওমান কী নিয়ে একমত হলো? হরমুজে জাহাজ চলাচলের নতুন পথ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতি কবে আসতে পারে? তৃতীয় কোনো পক্ষ বাধা না দিলে শিগগিরই যৌথ বিবৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কোন জায়গায় অনিশ্চয়তা? যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার দিকে নিতে পারে—এমন উদ্বেগ আছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









