আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরিকাঠামো করার বাধ্যবাধকতা সামনে রেখে শ্রমমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। সংগঠনটির দাবি, ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের মতো প্রক্রিয়ায় এখনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সবাই এই ইস্যুর টানাপোড়েন ঘরে ঘরে অনুভব করছেন, কারণ পোশাক খাতের মজুরির সঙ্গে জীবিকা, স্থিতি ও রপ্তানিমুখী শিল্পের টেকসই উৎপাদন সরাসরি জড়িত।
শ্রমমন্ত্রীর কাছে আইবিসির লিখিত আবেদন

আইবিসির সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে একটি আবেদন দেন। সেখানে তারা রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের অনুরোধ জানান।
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কাঠামো, কিন্তু বোর্ড নয়
চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রম আইন অনুযায়ী নতুন মজুরিকাঠামো করতে ডিসেম্বর ঘনিয়ে এসেছে। কিন্তু মজুরি বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। আইবিসির যুক্তি, বোর্ড গঠন, সদস্য মনোনয়ন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, অংশীজনের মতামত, গণশুনানি, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও সুপারিশ প্রণয়নের মতো কাজগুলো সময় নিয়ে সম্পন্ন করতে হয়। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
পাঁচ বছর থেকে তিন বছরে সময়সীমা কমেছে
আইবিসি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, আগে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে পাঁচ বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন হতো। তবে সংশোধিত শ্রম আইনে এই সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। ফলে সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরিকাঠামো কার্যকর হওয়ার পর পরবর্তী সময়সীমা দ্রুতই পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
দৈনন্দিন ব্যয় বাড়ায় মজুরি জরুরি
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ছাড়াও বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাত্রার চাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে পোশাকশিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সময়োপযোগী ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আইবিসির আশঙ্কা—প্রক্রিয়ায় দেরি হলে উত্তেজনা বাড়তে পারে
বাবুল আখতার বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে এবং বাড়তি মজুরি জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা পাবেন। প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় হলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে—এ কথাও তারা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন।
পোশাকশ্রমিক মজুরি বিষয়টি প্রবাসী পরিবারের আয়-ব্যয়ের বাস্তবতার সঙ্গেও জড়িত। মজুরি স্থিতিশীল থাকলে রেমিট্যান্স নির্ভরতা ও পারিবারিক বাজেটে চাপ কমে—আর একই সঙ্গে শিল্পের উৎপাদনচক্রও টিকে থাকে। তাই মজুরি বোর্ড গঠনের গতি এখন কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্নোত্তর
আইবিসি কেন শ্রমমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে?
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে শ্রম আইন অনুযায়ী মজুরি বোর্ড দ্রুত গঠনের দাবি তুলতে।
কোন সময়সীমার কথা বলা হয়েছে?
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরিকাঠামো করার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ কেন?
বোর্ড গঠন থেকে গণশুনানি ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ—সব কাজ সময় নিয়ে করতে হয়; দেরি হলে সময়মতো মজুরি ঘোষণা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









