জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাসের পরিবেশ। বন্ধ ফটকের বাইরে ব্যানার হাতে কর্মসূচি করেন নেতা-কর্মীরা—হামলার প্রতিবাদ, নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার দাবিতে।
প্রধান ফটকের সামনে কর্মসূচি

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচির আগেই প্রবেশের বিষয়ে পূর্ব ঘোষণা থাকলেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পেরে তারা বুধবার দুপুরে প্রধান ফটকের সামনে কর্মসূচি পালন করেন।
আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রসঙ্গ
মানববন্ধনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেভাবে নাজুক হচ্ছে, তাতে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী আচরণের মতো ঘটনা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে হামলার বিচার ও প্রশাসনের জবাব চাওয়া হয়।
৫ দফা দাবি: বিচার থেকে নিরাপত্তা
জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়।
এছাড়া সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ বাস্তবায়নের দাবি, ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
হাসপাতালে হামলার অভিযোগ ও স্লোগান
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে হামলার ধারাবাহিকতার কথাও বলা হয়। বলা হয়, হামলার পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে পরবর্তীতে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে—যা তাদের কাছে উদ্বেগের বিষয়। তারা সতর্ক করে বলেন, ক্যাম্পাস কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এখানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তা
ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রবাসী শিক্ষার্থীদের পরিবারকেও সরাসরি প্রভাবিত করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে—আর তাই দাবিগুলো কেবল ছাত্ররাজনীতির বাইরে, বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা প্রশ্নেও ওঠে।
সংক্ষেপে কয়েকটি প্রশ্ন
- বিক্ষোভকারীরা কেন প্রধান ফটকের সামনে কর্মসূচি করেন?—ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করতে পারায় তারা বাইরে থেকে কর্মসূচি চালান।
- ৫ দফা দাবিতে মূলত কী আছে?—হামলার বিচার, অস্থায়ী আবাসন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ, অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার কথা।
- পরবর্তী কী হতে পারে?—নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









