জুলাই গণঅভ্যুত্থান যেন শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে—এই আহ্বান জানালেন আহত যোদ্ধা নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তি। রাজধানীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, আন্দোলন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা হয়ে উঠুক।
শুধু স্মৃতি নয়, দায়িত্বের দলিল

নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজপথে নামেননি। ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নেই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, পরে আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে নানা আলোচনা হলেও অনেকেই নীরবে সরে দাঁড়িয়েছেন। কারণ দেশের জন্য কাজ করতে পারাটাই তাদের কাছে বড় সম্মান—ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয় বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তিগত দাবি নেই
প্রাপ্তি জানান, রাষ্ট্রের কাছে তার ব্যক্তিগত কোনো দাবি নেই। তবে দেশের স্বার্থে সরকারের নজরে আনতে চান দুটি বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ।
শহীদ-আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত
প্রথম দাবিতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত এবং সকল সংগ্রামীকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
হত্যার সঙ্গে জড়িতদের স্বচ্ছ বিচার
দ্বিতীয় দাবিতে তিনি বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি বলেন, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলাদেশিকে ন্যায়বিচারের জন্য রাজপথে জীবন দিতে না হয়।
নতুন দায়িত্ব: বেকারত্ব-দুর্নীতি কমানো
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন দেশের সামনে নতুন দায়িত্ব তুলে ধরেছে। সেই দায়িত্ব হলো এমন বাংলাদেশ গড়া, যেখানে শিক্ষিত তরুণদের বেকার থাকতে হবে না; যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে; সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে; দুর্নীতির সুযোগ কমবে; জনভোগান্তি কমবে; পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবেন।
এছাড়া একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়ন নিয়ে একটি জাতীয় নীতি প্রস্তাব তৈরির কাজ করছেন বলেও জানান। তার বিশ্বাস, সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের গবেষণা, চিন্তা ও গঠনমূলক প্রস্তাবও জাতীয় সম্পদ হিসেবে মূল্যায়িত হওয়া উচিত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, আহতদের প্রতি সম্মান এবং দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশার কথাও ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসে থেকেও আন্দোলনের ন্যায্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া মানে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে কর্মসংস্থান, সুশাসন ও নিরাপত্তা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা। রাষ্ট্র যদি শহীদ-আহতদের সম্মান এবং বিচার নিশ্চিত করতে পারে, তবে প্রবাসীদেরও আস্থা ও আশা ফিরে আসে।
প্রশ্ন-উত্তর
প্রাপ্তি কোন বার্তা দিয়েছেন?
জুলাই যেন ইতিহাসের শেষ অধ্যায় না হয়ে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা হয়।
তিনি সরকারের কাছে কী চান?
শহীদ-আহতদের যথাযথ স্বীকৃতি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের স্বচ্ছ বিচার।
জুলাই আন্দোলনের নতুন দায়িত্ব হিসেবে তিনি কী বলেছেন?
যোগ্যতার মূল্যায়ন, সুশাসন, দুর্নীতি কমানো, জনভোগান্তি হ্রাস ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









