GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / নবাবগঞ্জে ছাত্র–শিক্ষক নেই তবু কলেজ

নবাবগঞ্জে ছাত্র–শিক্ষক নেই তবু কলেজ

নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকে লেখা দেখা যাচ্ছে

ঢাকার নবাবগঞ্জে ছাত্র-শিক্ষক নেই তবু কলেজ শাখা কাগজে-কলমে বহাল—এমন বাস্তবতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা। আট বছর ধরেই মূলত শিক্ষা কার্যক্রম থমকে থাকলেও প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ‘কলেজ’ টিকে আছে।

কাগজে ‘কলেজ’, মাঠে নেই কার্যক্রম

নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকে লেখা দেখা যাচ্ছে

নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখা চালু থাকলেও বাস্তবে নেই শিক্ষার্থী, নেই শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটির ১২০ বছরের পুরোনো পরিচিতির সঙ্গে ‘কলেজ’ যুক্ত থাকলেও কার্যক্রম না থাকায় নামটি এখন বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কবে চালু হয় কলেজ শাখা

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের উদ্যোগে নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুলে কলেজ শাখা চালু হয়। শুরুতে শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও পরে ধাপে ধাপে তা দুর্বল হয়ে যায়।

ভর্তি বন্ধের পরও ‘থাকে’ অনুমোদন

২০১৭ সালে কলেজের জন্য ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কর্তৃপক্ষ কলেজ শাখা আর পুরোপুরি চালু করেনি। কলেজের আলাদা কোনো ভবনও নেই; আগে স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই কার্যক্রম চলত। একসময় ভর্তি-ঝোঁক কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে আগ্রহও হারিয়ে যায়।

কেন থেমে গেল আগ্রহ

স্থানীয় সূত্র বলছে, এক কিলোমিটারের মধ্যে দোহার নবাবগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও নবাবগঞ্জ মহিলা কলেজ থাকায় ভালো ফলাফলের প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা অন্যত্র চলে যান। ফলে কলেজ শাখায় ভর্তি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।

অভিভাবকদের প্রশ্ন—নামটা কেন থাকছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকে ‘নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ লেখা থাকলেও দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম না থাকায় ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। তাদের ভাষায়, নামের কারণে অনেক সময় মানুষ বিভ্রান্ত হন—বিশেষ করে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ভাবতে গিয়ে।

অধ্যক্ষের বক্তব্য

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলছেন, ২০১৩ সালে কলেজ কার্যক্রম চালু হয় এবং কয়েক বছর পর তা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, সরকারি গেজেটে কলেজ অংশ উল্লেখ আছে। শিক্ষা কার্যক্রম না থাকার বিষয়টিকে তিনি অনুমোদনের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রসঙ্গও আসে।

এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কারণ, ‘কলেজ’ শব্দটি ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলে—পড়াশোনা, খরচ, যাতায়াত ও সময় সবকিছুই নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের বাস্তব সক্ষমতার ওপর।

প্রশ্ন-উত্তর

কলেজ শাখায় এখন কেন শিক্ষার্থী নেই?
স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে, কার্যক্রম থেমে যাওয়ায় ভর্তি আগ্রহ ধরে রাখা যায়নি। পাশাপাশি কাছাকাছি অন্যান্য কলেজ থাকায় শিক্ষার্থীরাও অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান।

কাগজে কলেজ থাকলেও বাস্তবে কী সমস্যা হচ্ছে?
নাম ‘কলেজ’ হওয়ায় মানুষ বিভ্রান্ত হন এবং প্রতিষ্ঠানের মান-পরিচয়ও বাস্তব সেবার অভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এই বিষয়ে কী হতে পারে?
অনুমোদন থাকলেও বাস্তব শিক্ষাকার্যক্রম চালু রাখা, নথি-কার্যক্রমের সমন্বয় করা—এটাই মূল প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons