পাসপোর্ট করতে গিয়ে ভোগান্তি যেন আরও বাড়ছে—মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে উঠেছে পাসপোর্ট আবেদন অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, সরাসরি গেলে সামান্য ‘ভুল’ দেখিয়ে আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হয়, আর দালালের মাধ্যমে গেলে সহজে কাজ হয়ে যায়—তার বিনিময়ে বাড়তি টাকা নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
লাইনে আবেদন জমা, গেটের বাইরে ফাইল ধরিয়ে দেওয়া

সরেজমিনে দেখা যায়, সেবাপ্রত্যাশীরা নির্ধারিত নিয়মে লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিচ্ছেন। কারও আবেদনপত্রে ভুল থাকলে সেটি সংশোধন করে নিয়ে আসতে বলা হচ্ছে। তবে অফিসের গেটের বাইরে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি আবেদনকারীদের হাতে ফাইল ধরিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ আগে থেকেই ফাইল পৌঁছে দিচ্ছেন, কেউ আবার নতুন আগতদের সঙ্গে বাইরে কথা বলে যোগাযোগ রাখছেন।
ট্রাভেল এজেন্সির পরিচয়ে দালালির অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, মৌলভীবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নামে-বেনামে অসংখ্য লাইসেন্সবিহীন ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কারও কারও বিরুদ্ধে দালাল চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি জেলা শহরের কিছু ট্রাভেল এজেন্সি এবং পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার দাবিও করছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
অফিস কর্তৃপক্ষ বলছে, দালালের সঙ্গে যোগসাজশ নেই
এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, সরাসরি আবেদনপত্র জমার ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে এবং আবেদনপত্রে ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দালালদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশের অভিযোগও তারা নাকচ করেছেন।
সরকারি ফি আছে, তবু বাড়তি টাকা দাবি
অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মেয়াদ ও ডেলিভারি সময় অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের ফি নির্ধারিত। তবু সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে সরকারি ফির বাইরে সাধারণত আরও বাড়তি টাকা দিতে হয়। নামের ভুল, ঠিকানা সংশোধন কিংবা অন্যান্য জটিলতা থাকলে সেই খরচ আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগও শোনা যায়।
সরাসরি গেলে ভোগান্তির অভিজ্ঞতা
সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে একজন জানান, তিনি নিজে আবেদন করে দুই দিন অফিসে গেলেও আবেদন জমা দিতে পারেননি। তার অভিযোগ, সামান্য ভুল দেখিয়ে আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দালালের মাধ্যমে বাড়তি টাকা দিয়ে আবেদন জমা দিতে গেলে সেটি গ্রহণ করা হয়—এমন অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন তিনি। একাধিক সেবাগ্রহীতাও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাসপোর্টই হলো বিদেশে ভিসা, চাকরি, যাতায়াত ও নানা কাগজপত্রের ভিত্তি। আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকলে সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এটাই তাদের মূল উদ্বেগ।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









