রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধরের ঘটনাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ বলে অভিহিত করে রাকসু ও শিবির নেতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে তদন্ত, বিচার ও দায়ীদের জবাবদিহির পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বরাবর স্মারকলিপি দেন ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’–এর নেতারা। তাদের দাবি, লাইব্রেরির মতো নিরাপদ জায়গায় দফায় দফায় হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পাঁচ দফা দাবি কী
স্মারকলিপিতে প্রথম দাবি হিসেবে রাকসু ভবনে হামলার অভিযোগের তদন্ত ও দোষীদের অপরাধ অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এরপর বলা হয়, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশালমিছিলে হামলার ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং দায়ীদের বিচারে জবাব দিতে হবে।
আরেকটি বড় দাবি জুলাই-পরবর্তী সময়ের অমীমাংসিত নানা ঘটনার তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা। এর মধ্যে জুলাই ৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা এবং ৭টি হলে কোরআন পোড়ানোর উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোকেও তদন্তের আওতায় আনতে বলেছেন জোটের নেতারা।
পঞ্চম দফায় তারা প্রক্টর অফিসের কর্তব্যরতদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীর মোবাইল চেক ও শারীরিক লাঞ্ছনার মতো ঘটনায় ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে আইনবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীর ওপর জবরদস্তিমূলক ক্ষমতার চর্চাকে ‘পরবর্তী মব ভায়োলেন্সের সুযোগ’ করে দেওয়ার মতো বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
‘অপরাধ তদন্ত ও শাস্তি’র এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন
জোটের বক্তব্য, নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের হাতে অপরাধ তদন্ত ও শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যেকোনো অপরাধ তদন্ত ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা শুধু প্রক্টরিয়াল বডির বলেও তারা উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগ, ২৭ জুলাই রাকসু ও ছাত্র শিবিরের প্রথম সারির নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর ওপর মব ভায়োলেন্স ঘটিয়েছেন।
প্রবাসী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বার্তা
ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা প্রশ্নে এমন অভিযোগ সরাসরি প্রভাব ফেলে প্রতিটি পরিবারের মানসিক স্বস্তিতে। প্রবাসী অভিভাবকদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত না থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আর পড়ালেখার রুটিনে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই তদন্তে স্বচ্ছতা ও দ্রুত জবাবদিহি প্রত্যাশাই স্বাভাবিক।
শেষ কথা
শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাকসু ও ছাত্র শিবির নেতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি নতুন করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং বিচারের গতি—তিনটিতেই নজর টানছে।
প্রশ্নোত্তর
কারা স্মারকলিপি দিয়েছে?
বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’।
কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ।
মূল দাবি কী?
রাকসু এবং শিবির নেতাদের আইনের আওতায় এনে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পাঁচ দফা দাবি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









