বয়সের ব্যবধান ১৫ বছর।
তবুও ভালোবাসায় সুখী লেনা ও কিয়েটিল।
ডেটিং অ্যাপে তাদের পরিচয়।
এরপর শুরু হয় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ।
লেনার বয়স এখন ৪৫ বছর।
কিয়েটিলের বয়স ৩০ বছর।
সম্পর্কের শুরুতে নিজের বয়স জানাতে ভয় পাচ্ছিলেন লেনা।
তিনি ভাবছিলেন, সত্য জানলে সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে।
তাই ডেটিং প্রোফাইলে বয়স উল্লেখ করেননি তিনি।
কয়েক সপ্তাহ পর সম্পর্কটি সিরিয়াস হয়ে ওঠে।
তখন নিজের আসল বয়স জানান লেনা।
তবে এতে পিছিয়ে যাননি কিয়েটিল।
বরং সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেন তিনি।
প্রথম দেখাতেই লেনা জানিয়েছিলেন, তার একটি কিশোরী মেয়ে আছে।
এ তথ্যও কিয়েটিলকে দূরে সরিয়ে দেয়নি।
পরে লেনার মেয়ের সঙ্গেও দেখা করেন কিয়েটিল।
তার কাছে সম্পর্কটি নিয়ে আপত্তি আছে কি না, সেটিও জানতে চান।
লেনা অবশ্য কিয়েটিলের পরিবার নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।
তিনি ভয় পাচ্ছিলেন, পরিবার হয়তো বয়সের ব্যবধান মেনে নেবে না।
শেষ পর্যন্ত সেই ভয় সত্যি হয়নি।
কিয়েটিলের বাবা-মা লেনা ও তার মেয়েকে স্বাগত জানান।
বন্ধুরাও তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছেন।
কেউ বয়সের ব্যবধান নিয়ে উপহাস করলে কিয়েটিলও চুপ থাকেননি।
প্রয়োজনে এমন বন্ধুত্ব শেষ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
লেনার মেয়েও তাদের সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছে।
সে বলেছে, দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক।
কিয়েটিল লেনার সঙ্গে ভালো আচরণ করলেই সম্পর্কটি ঠিক আছে বলেও মনে করে সে।
লেনা ও কিয়েটিল এখন দুই বছর ধরে একসঙ্গে আছেন।
লেনার মতে, কিয়েটিলের শান্ত স্বভাব তাকে অনেক সাহায্য করে।
তার আবেগ ও চাপ সামলাতেও কিয়েটিলের ভূমিকা রয়েছে।
কখনো কখনো লেনার মনে হয়, কিয়েটিল তার চেয়েও বেশি পরিণত।
সম্প্রতি তারা নরওয়ের স্টাভানগারের কাছে একটি বাড়ি কিনেছেন।
এখন তারা ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিকল্পনা করছেন।
তবে বয়সের ব্যবধান কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করে।
সন্তান নেওয়া নিয়েও ভাবতে হচ্ছে তাদের।
অবসর জীবন নিয়েও রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা।
বার্ধক্যে একে অপরের যত্ন কীভাবে নেবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই আর্থিক পরিকল্পনাতেও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
বাড়ি কেনার সময় লেনা স্বল্পমেয়াদে বেশি অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কারণ তিনি কিয়েটিলের আগে অবসরে যাবেন।
পরবর্তীতে দুজনের অবদান সমান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরাও বয়সের ব্যবধানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
তাদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে এই পার্থক্যের প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে।
অবসর, অর্থ ও ভবিষ্যতের যত্ন নিয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা জরুরি।







