রাজবাড়ী সদরে এক নারী উদ্যোক্তাকে বেধড়ক মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটিকে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান হিসেবে দাবি করায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এই বিভ্রান্তি দূর করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিবৃতি দিয়েছে।
শনিবার অধিদপ্তর জানায়, এই অপ্রীতিকর ঘটনার সাথে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
ঘটনাটিকে অধিদপ্তরের অভিযান হিসেবে প্রচার করাকে সম্পূর্ণ অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর জানায়, গত ২৯ আগস্ট বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে তারা অভিযান চালায়।
পরদিন ৩০ আগস্ট কালুখালী উপজেলার মৃগী বাজারে অন্য একটি অভিযান পরিচালিত হয়।
আইন অনুযায়ী সেখানে ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য আর্থিক জরিমানা করা হয়েছিল।
অথচ ২৯ আগস্ট জেলা সদরের ‘আস্থা বস্ত্রালয়’-এর ঘটনাকে অধিদপ্তরের অভিযান বলে ভাইরাল করা হচ্ছে।
অধিদপ্তর আরও নিশ্চিত করেছে, আক্রান্ত ওই নারীও তাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেননি।
এ ধরনের অপপ্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সঠিক তথ্যের জন্য তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ অনুসরণ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাঞ্ছিত হওয়া ওই নারী উদ্যোক্তার নাম জাকিয়া সুলতানা।
তিনি ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।
জাকিয়া সুলতানার দাবি, ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে তাঁকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা জাকিয়া সুলতানাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন।
এমন সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে ওই নারীকে তীব্র শক্তিতে লাথি মারেন।
এরপর আরও কয়েকজন যুবক এসে তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে আসেন এবং ওই নারীকে রক্ষার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী জানান, তাঁর সাবেক কর্মচারী শাহনাজ পারভীন হিসাব না বুঝিয়ে অন্য দোকানে চলে যান।
এই নিয়ে বাজার সমিতির কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, কাপড়ের বাজারের কিছু ব্যবসায়ী ও কর্মচারী মিলে এই হামলা চালিয়েছে।
পূর্বেও বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।


