২০২৭ সালের পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব প্রকাশ্যে এসেছে। ইসলামি চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী রমজান প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।
৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে রোজা
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের রমজান শুরু হতে পারে সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি।
তবে এটি সম্ভাব্য তারিখ। রমজানের চূড়ান্ত সূচনা নির্ভর করবে নতুন চাঁদ দেখার ওপর।
সম্ভাব্য হিসাবে ৭ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে। চাঁদ দেখা গেলে ওই রাতেই প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করা হবে এবং পরদিন থেকে রোজা শুরু হতে পারে।
কেন প্রতি বছর রমজানের তারিখ এগিয়ে আসে?
ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে ১২টি চন্দ্রমাস রয়েছে। একটি ইসলামি বছর প্রায় ৩৫৪ দিনের, যা গ্রেগরিয়ান সৌরবর্ষের তুলনায় প্রায় ১১ দিন কম।
এ কারণে প্রতিবছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে। ফলে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মুসলমানরা শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎসহ বছরের বিভিন্ন ঋতুতে রোজা পালনের সুযোগ পান।
চাঁদ দেখা না গেলে তারিখ বদলাতে পারে
রমজানের শুরু নির্ধারণে নতুন চাঁদ দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশে নির্ধারিত সময়ে চাঁদ দেখা না গেলে স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোজা শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়ে যেতে পারে।
তাই ৮ ফেব্রুয়ারিকে এখনই চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে ধরা হচ্ছে না।
২০২৭ সালের ঈদুল ফিতর কবে?
রমজান সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিন স্থায়ী হয়। রমজান শেষ হওয়ার পর শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা গেলে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতর বুধবার, ১০ মার্চ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ঈদের তারিখও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি চূড়ান্ত নয়।
রমজান মুসলমানদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইসলামি বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিলের সূচনা হয়।
রমজানে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ধূমপান থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করা হয়। একই সঙ্গে নামাজ, দান-সদকা, আত্মসংযম এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রমজানকে ঘিরে প্রস্তুতি
২০২৭ সালের রমজান শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি থাকলেও মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ধীরে ধীরে প্রস্তুতি শুরু হবে।
মসজিদ প্রস্তুত করা, জনসেবা কার্যক্রম পরিকল্পনা করা এবং চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নেবে।
সবশেষে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব থেকে সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও ইসলামি রীতি অনুযায়ী রমজান ও ঈদের আনুষ্ঠানিক তারিখ নতুন চাঁদ দেখার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।









