রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও রক্তনালিতে চর্বি জমার মতো সমস্যা হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
তবে নতুন এক গবেষণায় উচ্চঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য আশার কথা উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন গ্রহণ করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমতে পারে।
গবেষণায় যা জানা গেল
‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত ওই গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার ৯ হাজার ৯৭১ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশ ছিলেন নারী।
অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন ৪০ মিলিগ্রাম অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন অথবা প্ল্যাসিবো দেওয়া হয়।
প্রায় ৫ দশমিক ৯ বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন গ্রহণকারী দলের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্ল্যাসিবো গ্রহণকারীদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম ছিল।
কীভাবে কাজ করে অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন?
অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন এক ধরনের স্ট্যাটিন ওষুধ। এটি মূলত রক্তে ক্ষতিকর LDL বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
এর ফলে ধমনিতে চর্বি বা প্লাক জমার ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি ধমনিতে আগে থেকে জমে থাকা প্লাককে স্থিতিশীল রাখতেও এটি সহায়তা করতে পারে।
স্ট্যাটিন কী কী উপকার করতে পারে?
স্ট্যাটিন ব্যবহারের ফলে—
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে
- ধমনিতে প্লাক জমার ঝুঁকি কমতে পারে
- রক্তনালির প্রদাহ কমতে পারে
- হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে
কারা বেশি উপকৃত হতে পারেন?
গবেষণার ফলাফল বিশেষ করে বয়স্ক এবং হৃদরোগের উচ্চঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন—
- ৭০ বছরের বেশি বয়সি ব্যক্তি
- উচ্চ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত ব্যক্তি
- উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ব্যক্তি
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
- একাধিক হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তি
তবে সবার জন্য স্ট্যাটিন প্রয়োজন হবে এমন নয়। একজন ব্যক্তির কোলেস্টেরলের মাত্রা, অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সামগ্রিক হৃদরোগের ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসক ওষুধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে ধমনির ভেতরে ধীরে ধীরে প্লাক জমতে পারে। এতে রক্ত চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে।
দীর্ঘদিন এ সমস্যা চলতে থাকলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে HDL বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরল শরীরের জন্য উপকারী। তাই শুধু মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা নয়, LDL, HDL এবং অন্যান্য লিপিডের মাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাটোরভাস্ট্যাটিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
স্ট্যাটিন সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা, লিভার এনজাইমের পরিবর্তন এবং অন্য ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছায় অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক কোলেস্টেরল পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করেন।
শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ
কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।
এ জন্য—
- বেশি করে ফল ও শাকসবজি খেতে হবে
- স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার বেছে নিতে হবে
- নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে
- শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
- ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে
কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে, তবে কোন ওষুধ বা কত মাত্রায় প্রয়োজন তা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করা উচিত।








