জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত সিয়ামের নামে থাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
বয়স বিবেচনায় সাজা দেওয়ার কথা জানালেন আইনজীবী
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি জানান, আসামির বয়স বিবেচনায় নিয়ে আদালত সাজা দিয়েছেন। রায় ঘোষণার আগে সিয়ামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা জারির মাধ্যমে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওই দিন আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১৫ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
৩৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তিনি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।
একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। তদন্তে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আলোচনায় আসেন আবেদ আলী
সিয়ামের বাবা সৈয়দ আবেদ আলী জীবন পিএসসির সাবেক গাড়িচালক। সরকারি কর্ম কমিশনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আলোচনায় আসেন তিনি। ওই ঘটনায় আবেদ আলীর নাম সামনে আসার পর তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিচার শেষে এবার তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো।









